skip to main |
skip to sidebar

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের (বর্তমান ভারতের) কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।। তিন ভাই-তিন বোনের
মধ্যে তার অবস্থান সবার শেষে। মুসলিম রক্ষণশীল পরিবারের ছেলে
কিন্তু জমিদার ছিলাম না তবে, জমিদারের মতোই সম্পত্তি ছিলো। আট বছর
বয়সে তিনি তার বাবা-মাকে হারিয়েছেন। এর পর ভাইবোনদের কাছেই তার বেড়ে ওঠা।
ছয় ভাইবোনের মধ্যে এখন চারজনই এখন আর নেই। শুধু রাজ্জাক আর তার একটি বোন বেঁচে
আছে। পড়ালেখার পশাপাশি বেশ দুষ্ট ছিলেন। সারাক্ষণই বন্ধুদেরও সঙ্গে
হৈ-হুল্লর করে বেড়াত। রাজ্জাক বেশ ভালো ফুটবল খেলতে পারতো। তখন কলকাতায়
ফুটবলের দারুণ উন্মাদনা। ফুটবল খেলোয়াড়রা উত্তম কুমারের মতো জনপ্রিয় ছিলো। রাজ্জাকের
ধ্যান-জ্ঞান ছিলো শুধুই ফুটবল। গোল রক্ষক হিসেবে কলকাতায় বেশ নাম
করেছিলেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে
অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নায়ক
অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহীতে
গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়ক রাজের অভিনয়ে
সম্পৃক্ততা। খানপুর মাধ্যমিক স্কুল থেকে পাশ করে চারুচন্দ্র কলেজে একাদশ
শ্রেণীতে ভর্তি হয়। তখন অভিনয় আর খেলা দুটোই সমান তালে চালিয়ে গিয়েছিল। এক
সময় অভিনয়ের ব্যস্ততা অতঃপর যুদ্ধের কারণে খেলার ঝোকটা মাথা থেকে বেড়িয়ে যায়। তবে এখনও ফুটবল দেখলে রাজ্জাক কেমন যেন আনমনা হয়ে যায়।অভিনয় জীবনের শুরুতে তিনি পীযূষ বোসের বিভিন্ন নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতেন।
এক সময় তাদের রঙ্গসভার নিয়মিত নাট্যকর্মী হয়ে যান। সুদর্শন চেহারার অধিকারী
হওয়ায় বরাবরই তিনি নায়কের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেতেন। তিনি ১৯৫৯ সালে
বোম্বের ফিল্ম ইন্সটিটিউট ফিল্মালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক
দাঙ্গা শুরু হলে সপরিবারে ঢাকা চলে আসেন।
চলচ্চিত্রে হাতেখড়ি
টালিগঞ্জের ফিল্মপাড়ার কাছেই ছিল রাজ্জাকদের পৈতৃক বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই
কানন দেবী, বসন্ত চৌধুরী, ছবি বিশ্বাসদের দেখে দেখে বড় হয়েছেন। তাদের
জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ হয়ে মনে মনে ভাবতেন 'একদিন আমি তাদের মতোই বড় অভিনেতা
হব।' টালিগঞ্জের বড় বড় স্টুডিও ছিল তাদের এলাকায়। সেখানে নিয়মিত আড্ডা দিতে
যেতেন তিনি। এভাবেই পীযূষ বোসের নজরে পড়া এবং অভিনয়ে নিয়মিত হওয়া। তবে
ঢাকার আসার পর তিনি যোগাযোগ করেন ঢাকার প্রথম ছবি 'মুখ ও মুখোশ'-এর পরিচালক
আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে। তিনিই আব্দুর রাজ্জাককে ওই সময়ের বিখ্যাত
চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ইকবাল ফিল্মসে চাকরি নিয়ে দেন।
0 comments:
Post a Comment