Tuesday, April 4, 2017

তিশা-ফারুকীর প্রেম কাহিনী।

তিশার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে বেশ কিছু দিন। দুজনেই বুঝতে পারছেন প্রেমে পড়েছেন। কিন্তু মুখ ফুটে বলার সাহস হচ্ছে না। দুজনেই ইনিয়ে-বিনিয়ে তাদের মনের কথাটা বোঝানোর অন্তত চেষ্টা করেন। তিশা বলেন, 'আমার বড় বোন থাকলে তাঁর সঙ্গে আপনার বিয়ে দিতাম। সরয়ার ফারুকী বলেন, 'তোমার বড় বোন থাকলে তাকে আমি অবশ্যই বিয়ে করতাম। কিন্তু কতদিন!

একদিন ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর, কালিগঞ্জে এক শুটিংয়ে তিশাকে সোজাসাপ্টা জিজ্ঞেস করলেন সরয়ার ফারুকী, 'আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবা?' হতভম্ব তিশা নিজেকে সামলে নিতে ১৫ সেকেন্ড সময় নিলেন। তারপরই সম্মতি জানালেন। ব্যস শুরু হয়ে গেল একটি প্রেমের গল্প।

ফারুকী বললেন, 'এর আশপাশে আরো কিছু গল্প আছে। আমরা তখন '৬৯'-এর শুটিং করছি। সিদ্ধান্ত নিলাম আর ধূমপান করব না। ঘরে প্রতিটি আনাচে কানাচে লিখে রাখলাম 'ডোন্ট স্মোক'। যেখানেই যাই, ওই লেখা। বালিশের নিচে, বাথরুমে। ড্রেসিংটেবিল, তোশকের নিচে, দরজায়_সব জায়গায়। ততদিনে তিশার কাছে খুলে বললাম জীবনের সব পাপ-পূণ্যের কথা। প্রেমের জন্য ধূমপান ছাড়ছি। কষ্ট নেই। কিন্তু মেজাজটা কেমন খিটমিটে হয়ে গেল। তিশা এলো সেবিকার মতো। তারপর ধীরে ধীরে কোথা থেকে কী হলো! এখন তো দেখছি আমাকেই সারা জীবন তার সেবা করে যেতে হবে।' হাসতে লাগলেন ফারুকী।

প্রথম প্রথম
"ফারুকী তো আমাকে আজ পর্যন্ত 'আই লাভ ইউ ' বলতেই পারেনি। প্রেম শুরু হয়েছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে।" হাসতে হাসতে বললেন তিশা। "প্রথম দিনেই সে আমার সঙ্গে তুমুল ঝগড়া করেছে। নানা বিষয়ে নানা জনের ব্যাপারে আমাকে বলছে। বুঝতে পারলাম মিয়া সাহেবের মেজাজ খারাপ। একটু পর পর এটা-সেটা নিয়ে হুকুম জারি। পরদিন আবার সব ঠিকঠাক। 'নো ম্যান্ডস ল্যান্ড' রিলিজের দিন (২০০৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি) ছিল ভালোবাসা দিবস। সেদিনই আমি মাকে জানাই আমাদের প্রেমের কথা। আমি আমার সব কিছুই মায়ের সঙ্গে শেয়ার করি। আমার মা কখনোই কোনো বিষয়ে জোর করেননি। তবে এ ব্যাপারে কিছু শর্ত দিয়েছিলেন আমাদের ভালোর জন্যই। এরপর শুরু হলো নতুন ঝামেলা। আমরা প্রেম করছি। নানা জনে জানতে চায়। আমরা এর কাছে লুকাই, ওর কাছ থেকে লুকাই। মুখ ফুটে বলতে পারছি না কাউকে। কী কষ্ট!"
ফারুকী বললেন, 'আসলে প্রেম বিষয়টা কেমন বাচ্চাদের মতো। নিজেরা আগে নিজেদের ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে তো লোকজনকে বলে বেড়ানোর কিছু নেই। আমরা রাত জেগে কথা বলছি। আমি তাকে এসএমএস করি, সে আমাকে নানা ধরনের (কী ধরনের বলা যাবে না!) জোকস পাঠায়। দুজনে মিলে সংসার নিয়ে ডিসকাস করি। এমনকি আমরা আমাদের বাচ্চার নামও ঠিক করে ফেলেছি। ছেলে হলে পাপ্পু আর মেয়ে হলে চিঙ্কি।'
অতঃপর বিয়ে
দুই পরিবারের সবাই ততদিনে জানাজানি হয়েছে সব। এবার আলোচনা বিয়ে নিয়ে। তিশা জানালেন মজার তথ্য, 'প্রতি বছরই সরয়ার ফারুকী বলে, এ বছরই বিয়ে করব। এভাবে বেশ কয়েক বছর হলো। কিন্তু বিয়ে আর করা হয় না।
এ বছরের শুরুতেই ফারুকী জানাল আমার মনে হয় তোমার সঙ্গে আমার বিয়েটা এ বছরও হবে না। আর দেখুন কেমন করে বিয়ের সব ঠিকঠাক হয়ে গেল!'

ফারুকী বললেন, '১০-১৫ দিন আগে তো চরম ফ্রাস্টেটেড। দুজনে কথা বললাম। আসলে আমরা দুজন দুই রকম। তার চেয়ে বরং দুজন আলাদা হয়ে যাই।'

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারদিন কোনো যোগাযোগ করলেন না তাঁরা। যখন ঘুমাতে গেলেন, ঘুম আর আসে না। শেষ পর্যন্ত ফোন। দিনটিকে তাঁরা নাম দিয়েছেন একদিনের বিচ্ছেদ। অবশেষে ১৮ মে দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হলো ১৬ জুলাই বিয়ে করবেন তাঁরা। আনুষ্ঠানিকতা হবে দুই বার। একটি হোটেল ওয়েস্টিনে। অন্যটি সরয়ার ফারুকীর নিজ এলাকা নাখালপাড়ায়।

বাসররাতের গল্প

তিশা কখনোই ভাবেনি যে তার জীবনটাতে এমনটা হবে! কেমন যেন স্বপ্নের মত লাগছে সব কিছু! এত হুটহাট মানুষের জীবনে পরিবর্তন হয়! এখনও তিশার মনে হচ্ছে সে হয়ত নানির পানের সাথে লুকিয়ে কাঁচা সুপারি খেয়ে ঘোরের মধ্যে আছে! নিজেকে সে একটা চিমটি কাটে।
উহ! ব্যথা পেলাম তো! তার মানে সবই ঠিক আছে। সবই সত্য!
কিছুক্ষণ আগে তার বিয়ে হয়েছে। পাত্রপক্ষ সন্ধাবেলা দেখতে আসল। কিছুক্ষণ কথাবার্তা হল। সে শুধু শুনেছে ছেলে নাকি সোনার টুকরা! ভাল চাকরি করে! ঘুষ না খেয়েই ভাল বেতন পায়। ছেলে তাকে পছন্দ করেছে। আর এতেই বাবা আনন্দে আত্মহারা! হঠাৎ বাবা এসে তাকে জিজ্ঞেশ করলেন, মা। আমরা চাই তোর এখানে বিয়ে হোক। তোর কি আপত্তি আছে?
তিশা কি বলবে প্রথমটায় বুঝতে পারছিল না। পরে ভাবল বিয়ে তো করতেই হবে। তাছাড়া পাত্রের চেহারা তার অপছন্দ হয়নি। তাই সে দিল হ্যাঁ-বোধক মাথা নাড়িয়ে!

কিন্তু তখন তার মনে তেমন কোন জটিল চিন্তা না আসলেও এখন চরম অস্বস্তিতে তার মাথা ঘুরাচ্ছে! লাল একটা শাড়ি পরে সে বিছানায় চুপচাপ বসে আছে। একটু পরে তমাল (পাত্রের নাম) আসবে। বিষয়টা তিশা এখনো মেনে নিতে পারছে না। চেনে না জানে না এমন একটা লোকের সাথে তাকে একই ছাদের নিচে থাকে হবে!

আচ্ছা তমাল এসে কি করবে! হালুম করে ঝাঁপিয়ে পড়বে নাতো! ইস এসব আমি কি ভাবছি!

তিশার ভাবনা অদ্ভুত থেকে অদ্ভুতুড়ে পর্যায়ে যেতে থাকে!

সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন মানুষের সাথে কিভাবে আমি থাকব? একই ছাদ... একই বিছানা ... এ মা কাঁথাটাও তো একটাই...
একটু পর তমাল আসল। দরজা বন্ধ করার সাথে সাথে তিশার বুকটা কেঁপে উঠল। সে চোখ বন্ধ করে রইল। কিন্তু তার কান সম্পূর্ণ সজাগ! সে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে তমাল হেঁটে হেঁটে খাটের কোনায় এসে পৌঁছেছে! হঠাৎ তিশার মনে হল কেউ বোধহয় তার শাড়ির আঁচল ধরে টানছে। শিট! এসেই শুরু করল! এ তো দেখছি চরম অসভ্যলোকরে বাবা!
পরক্ষণেই তিশা চোখ মেলে দেখল তার শাড়ি ধরে কেউ টানেনি। আঁচলের এক অংশ খাটের মশারি স্ট্যান্ডের সাথে আটকে গিয়েছিল। আর তমাল তার সামনে বসে আছে। সে তিশাকে অবাক করে দিয়ে বলল, তোমার চোখ দুটো তো অনেক সুন্দর!

0 comments:

Post a Comment

Facebook Twitter Delicious Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Bluehost Review