Friday, March 31, 2017

মর্জিনার দুঃখে ভরা জীবন কাহিনী।

গায়ের রঙ কালো , এমন এক মেয়ের নাম মর্জিনা ।
নিষ্ঠুর পৃথিবী যেন তার সব ঘৃণা মর্জিনার গায়ের রঙে ঢেলে দিয়েছে । মর্জিনার বাবা মা , কারো গায়ের রঙই কালো নয় । এমন
কি মর্জিনার দুই ভাই বোনের গায়ের রঙও উজ্জ্বল । মর্জিনার বয়স এখন ২৩ বছর । প্রকৃতির অনেক রহস্যই সে বুঝে । কেন যেন গায়ের রঙের রহস্যটা তার কাছে অধরা থেকে যায় ! মর্জিনার বাবা অশিক্ষিত আড়ত ব্যবসায়ী । বউয়ের সাথে যখন তার
ঝগড়া লাগত তখন বউকে তিনি লাঠিপেটা করতেন । কথায় কথায়
মর্জিনার জন্মপরিচয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতেন । পরপুরুষের
সাথে মর্জিনার মায়ের অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলতেও
তিনি হেজিটেট ফিল করতেন না । সব শুনে মর্জিনার মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করত । তখন
চেনা পরিচিত মানুষগুলোর মাঝে নিজেকে ভিনগ্রহের কুৎসিত
প্রাণী বলে মনে হত তার । মর্জিনার বাবা বাড়িতে কাজের বুয়া রাখেন নি । মর্জিনা থাকতে কাজের
বুয়ার দরকার কি ? অন্য দুই সন্তানকে পড়াশুনা করাতে তার উৎসাহের
কোন কমতি নেই , কিন্তু মর্জিনার পড়াশুনা তার কাছে বিলাসিতার
শামিল । কাজের বুয়ার আবার কিসের পড়াশুনা ? রাস্তায় মর্জিনা যখন বের হয় , তখন এলাকার ছোকরা গুলো তার
দিকে এমন ভাবে তাকায় যেন তারা কোন মেয়ে দেখছে না , দেখছে এক
নেড়ি কুকুরীকে ! মাঝে মাঝে মর্জিনাদের বাসায় তার কাজিনরা বেড়াতে আসে ।
মর্জিনা যতই তাদের আপন করতে চায় , তারা ততই
মর্জিনাকে দূরে ঠেলে দেয় । মর্জিনার খুব ইচ্ছে করে মামাত বোনদের সাথে রাতে ঘুমাতে , তাদের
সাথে সুখ দুঃখের গল্প করতে ! কিন্তু , মামাতো বোনেরা তার
সাথে ঘুমাতে ভয় পায় । মর্জিনার সাথে ঘুমালে তাদের গায়ের রঙ
যদি কালো হয়ে যায় !! এলাকার ছোকরা গুলো মর্জি নাকে দেখলে ছড়া কাটে ,
'' তু তু তু তু তারা , মর্জিনার মা মার্কা মারা । '' নীরবে নিভৃতে মর্জিনার দু চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে তখন । আজ মর্জিনার বিয়ে ।
বর বলার মত কেউ না । বলতে গেলে এক ঘাটের মরা বুড়ো । গত বছর
তার বউ ব্রেইন স্ট্রোকে মারা গেছে ।
খানা পিনায় সমস্যা হয় , তাই মর্জিনাকে বিয়ে করছে সে ।
যাবতীয় স্বপ্নের জলাঞ্জলি দিয়ে মর্জিনা ঐ বুড়োকেই
বিয়ে করতে রাজি হয় । একদিন দুপুরে মর্জিনা গোছল করছিল । স্তনে হাত দিতেই
সে বুঝতে পারল তার স্তন দুটো কেন যেন শক্ত হয়ে গেছে ।
দিন যায় আর স্তনের শক্ত হওয়া অংশের আকার বাড়তে থাকে । মর্জিনাদের পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েটা সলিমুল্লাহ মেডিক্যালে 4th
yerar এ পড়ে । মেয়েটার কাছে মর্জিনা স্তনের ব্যাপারটা খুলে বলল ।
মেয়েটার কপালের দুশ্চিন্তার স্পষ্ট ভাজ মর্জিনার দৃষ্টি এড়াল ন ।
মেয়েটার কথা মত মর্জিনা ব্রেস্ট বায়োপ্সি , ম্যামোগ্রাফি এসব
টেস্ট করালো । টেস্টের রিপোর্ট হাতে নিয়ে ডাক্তার বললেন মর্জিনার ব্রেস্ট
ক্যান্সার হয়েছে । ইমিডিয়েটলি মর্জিনা যদি স্তন দুটি অপারেশনের
মাধ্যমে অপসারণ না করে তাহলে কিছুদিনের মধ্যই ক্যান্সার
নাকি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়বে ! রাস্তা দিয়ে মর্জিনা হাঁটছে ।
সে চায় না , দেহভোগী তার স্বামীর কাছে এই সব ব্যাপার খুলে বলতে ।
দৃষ্টি শুন্য তার ! পা দুটো কেন যেন পিচ ঢালা রাস্তার
সাথে আটকে যেতে চাচ্ছে বারবার !
এলোমেলো গতিবিধি তার !
ডান হাতে তার টেস্টের রিপোর্ট আর বাম হাতে বিষের একটা ছোট্ট শিশি ।
মর্জিনাদের বেশিদিন বাঁচতে নেই !!

0 comments:

Post a Comment

Facebook Twitter Delicious Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Bluehost Review