১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর রুনা লায়লা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেটে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা আনিতা সেন ওরফে আমেনা লায়লা ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী। তার মামা সুবীর সেন ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী। তার যখন আড়াই বছর বয়স তার বাবা রাজশাহী থেকে বদলী হয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের মুলতানে যান। সে সুত্রে তার শৈশব কাটে পাকিস্তানের লাহোরে। তিনি গান শেখার সময় ছোটবেলায় রুনা বোনের পাশে বসে থাকতেন। একটি অনুষ্ঠানে
দীনা অসুস্থ থাকার কারণে আয়োজকরা রুনাকে মঞ্চে উঠিয়ে দেন। সেখানে তানপুরা
নিয়ে ‘খেয়াল’ পরিবেশন করে নজর কাড়েন তিনি। সেই থেকে শুরু।
যখন
তার বয়স মাত্র সাড়ে ১২ বছর। এরপর বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজিসহ ১৮টি
ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি।
স্বীকৃতি হিসেবে মিলেছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিনি ঘরে একেবারেই সাধারণভাবে থাকেন। সালোয়ার-কামিজ আর ম্যাক্সিই পরেন বেশি। জায়গা এবং অনুষ্ঠানের ধরনের ওপর মূলত তার পোশাক নির্বাচন নির্ভর করে। গানের অনুষ্ঠান থাকলে জমকালো শাড়ি পরেন। অন্যান্য অনুষ্ঠানে সাধারণত হালকা রঙের পোশাক বেছে নেন। তার আরেকটি বিষয় দারুন যে, তিনি ঘরের বাইরে সবসময়ই সেজে যেতে পচ্ছন্দ করেন। বিশেষ করে ডান হাতে সোনার বালা, বাঁ হাতে ঘড়ি, আঙুলে কয়েকটি আংটি। এই লুকে তাকে বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়।
তার ভাষ্যেই জানা যায়_ কৈশোরে যখন থেকে তিনি গান শুরু করেছিলেন, তখন থেকেই আংটির প্রতি আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। তবে তিনি জানান এর কোনো নির্দিষ্ট কারণ কিংবা রহস্য নেই। ব্যাপারটা হঠাৎই। এছাড়া এটা কেতাদুরস্ত করবে, এমন চিন্তাও ছিল না। অনুষ্ঠান ছাড়া এমনিতে কিন্তু গয়না খুব একটা তিনি পরেন না। আর তার হাতের আংটিগুলোর মধ্যে বিয়ের আংটিও আছে। ঘরে এসে অন্যগুলো খুলে রাখলেও ওটা সবসময় পরে থাকেন।
জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছুটা বিশ্বাস করেন শিল্পী রুনা লায়লা। রাশি নিয়মিত তার পড়েন না তবে, মাঝে মধ্যে চোখে পড়লে পড়েন। তিনি প্রতিদিন ভাগ্য নিয়ে ভাবেন না। শিল্পী রুনা লায়লার বাবার এক বন্ধু ছিলেন, তিনি ভালো হাত দেখতে পারতেন। তার অনেক কথাই ফলে গেছে। শিল্পী বলেন- যখন তিনি ছোট্ট ছিলেন, করাচিতে থাকতে তার বাবার সেই বন্ধু বলেছিলেন, এই মেয়ে কিন্তু একদিন বিরাট গায়িকা হবে, পৃথিবীজুড়ে তার নাম ছড়াবে।
রুনা লায়লা কি ভালো রাঁধুনি? এই প্রশ্নে তারই উত্তর 'মোটামুটি'। তিনি ভালো রান্না করেন মাশরুম। ফেসবুকের কথা উঠতেই তার সোজা উত্তর এটা আমার অবসেশন নয়। মোটামুটি ফেসবুক ব্যবহার করেন। অন্যদের স্ট্যাটাস পড়েন। শিল্পী রুনা লায়লা সার্কের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করছেন। আর তিনি সবসময়ই সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ খুব আগ্রহের সাথে করে থাকেন। মানুষের সেবা করতে পারলে তার ভালো লাগে। এ জন্য সবসময়ই মানুষের জন্য কিছু না কিছু করার চেষ্টা তার মধ্যে উপস্থিত।
2:27 PM
ABC


Posted in:
0 comments:
Post a Comment