এমন অনেক দেশ আছে, যেখানে শিক্ষার আলো পেতে শিশুদের অনেক দুর্গম পথ পার হতে
হয়৷ পাহাড়ে উঠে, পানিতে ভিজে, ঝুলন্ত সেতু পেরিয়ে, বিপজ্জনক সব রাস্তা
দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায় তারা। তেমনই কিছু ছবি ও ছবির গল্প ।
৮০০ মিটার উঁচু খাড়া পাহাড় পেরিয়ে স্কুলে। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লিয়াংশান জেলার একটি পাহাড়ি গ্রাম আটুলের৷
সেখানকার এই রাস্তাটাই হচ্ছে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে
দুর্গম পথ৷ প্রতিদিন ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের এই পথ দিয়ে পাহাড়ে উঠে বহু কষ্টে
যেমন করে স্কুলে যেতে হয়, তেমনি ফিরতেও হয় ঐ একই পথ ধরে৷
নীচে তাকালেই বিপদ!
ঝুলন্ত দড়ির মই বেয়ে প্রতিদিন ৯০ মিনিট ধরে
স্কুলে যেতে হয় এই শিশুদের৷ শিশুদের জন্য এভাবে পথ চলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ৷
এর জন্য এ অঞ্চলে আগে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে, মারাও গেছে অনেকে৷ তবে আশার
কথা, এতদিনে সিচুয়ান প্রদেশের টনক নড়েছে৷ শোনা যাচ্ছে শীঘ্রই এখানে একটি
পাতের সিঁড়ি তৈরি করা হবে।
কাঠের রাস্তা
দক্ষিণ চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চল গুয়াংশির একটি গ্রামের
শিশুদের স্কুলে যাওয়ার জন্য রোজ নংইয়ং পর্যন্ত যেতে হয়৷ এর জন্য প্রতিদিন
দুই ঘণ্টা কাঠের সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ে উঠতে হয় তাদের৷ শুধু তাই নয়, কাঠের এই
সিঁড়িগুলোতে কোনো রেলিং পর্যন্ত নেই!
তারের সেতু
ইন্দোনেশিয়ার লেবাক অঞ্চলের শিশুদের স্কুলে যেতে হলে
একসময় তারের এই ঝুলন্ত সেতুটির ওপর দিয়ে যেতে হতো৷ নীচেই নদী, তাই এ পথও
ছিল যথেষ্ট দুর্গম। এখন অবশ্য এখানে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে ।
ভেলায় চড়ে স্কুলে যাওয়া
শুনলেই রোমাঞ্চকর মনে হতে পারে৷ কিন্তু
ফিলিপাইন্সের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের এমনটা প্রতিদিন করতে হয়
প্রয়োজনে, সাধ করে নয়৷ হ্যাঁ, গ্রাম থেকে রিজাল প্রদেশে যেতে ভেলায় চড়ে
রোজ নদী পার হতে হয় তাদের৷ সেখানেই রয়েছে এলাকার একমাত্র স্কুলটি। তাই লাখো
শিশু এভাবেই ভেসে ভেসে স্কুলে যায় প্রতিদিন।
শিক্ষার আলো পেতে যেখানে ২২ কিঃ মিঃ পাহাড়ে উঠতে হয় !
মরক্কোয়
স্কুলে যাওার এই রাস্তাটা চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লিয়াংশান জেলার মতো এতটা
ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও, কষ্টকর বটে৷ জাহিরা নামের ছোট্ট এই মেয়েটিকে স্কুলে
যাতায়াতের জন্য প্রতিদিনই অন্তত চার ঘণ্টা পাথর বিছানো এই উঁচু-নীচু পথে
হাঁটতে হয়, তাও আবার দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার।
0 comments:
Post a Comment