মাশরাফি বিন মর্তুজা : ৫ অক্টোবর , ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা নড়াইল জেলা জন্ম গ্রহন করন । নানা
বাড়িতে জন্ম মাশরাফির। বড়ও হয়েছেন নানা বাড়িতেই। মাশরাফির নানির মনে হয়েছিল তার
মেয়ে (মাশরাফির মা) নাতিকে ঠিকভাবে লালন-পালন করতে পারবেন না। নানা বাড়ি লাগোয়া
প্রাইমারি স্কুলে পড়লেও এসএসসি-এইচএসসি পাশ করেছেন নড়াইল সরকারি স্কুল ও কলেজ
থেকে। মাশরাফির যখন ছয় মাস বয়স তখন তার বাবা গোলাম মর্তুজা চাকরি উপলক্ষে নড়াইল ছেড়ে সস্ত্রীক
ঢাকায় এসে বসবাস করতে হয়। তিনি ছিলেন বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির
কর্মাধ্যক্ষ। মাশরাফি থেকে যান নানির কাছে। ছেলেকে দেখতে মা পনেরো দিন পর
পর নড়াইল আসতেন। এভাবে দুবছর টানাপোড়েনের পর মাশরাফির বাবা চাকরি ছেড়ে
নড়াইল এসে স্থায়ী হোন। ছোটবেলা থেকে মাশরাফি ছিলেন দুরন্ত। বাবা মায়ের আদর করে তাকে ডাকেন কৌশিক। লেখাপড়া
ভালোভাবে মনোযোগ না দিয়ে বাবা গোলাম মর্তুজার বাধা ডিঙিয়ে ফুটবল,
ব্যাডমিন্টন নিয়ে পড়ে থাকতেন। পাশাপাশি বাড়ির পাশে চিত্রা নদীতে সাঁতার
কাটাই ছিলো তার আসল কাজ। বন্ধুদের
সাথে ঘুরাঘুরি করা, নারিকেল গাছে উঠে ডাব খাওয়া, নড়াইলের ফেরিঘাটে গিয়ে
আড্ডা মারা ছিলো তার অন্যতম কাজ। এখনও সময় পেলে গ্রামের বাড়ি নড়াইলে গিয়ে
বাইক নিয়ে চিত্রা ব্রিজের উপর আড্ডা দিয়ে সময় পার করেন মাশরাফি। পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলেন মাশরাফি। তার এসএসসি-এইচএসসির ফলও ভালো
ছিল। এইচএসসি পাশ করার পর দর্শন শাস্ত্রে অনার্স কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছেলেবেলায় স্কুলের মাঠে বড়দের ক্রিকেট খেলতে দেখে মাশরাফি খেলাটিতে
আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। তবে ফাস্ট বোলার বা মারকুটে ব্যাটসম্যান নয়, উইকেটরক্ষক হতে
চাইতেন মাশরাফি।
উইকেটরক্ষকের
হাতে গ্লাভস থাকে। মাশরাফির তো আর গ্লাভস ছিল না। দু'হাতে দুটি চপ্পল নিয়ে
উইকেটরক্ষকের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন তিনি। বেশিক্ষণ সেখানে থাকতে পারতেন না। বড়রা
তাকে সরিয়ে দিত, আর মন খারাপ করে বাড়ি ফিরতেন তিনি। যার ক্রিকেট নিয়ে এত আগ্রহ, তাকে কি আর আটকে রাখা যায়? কোনো বাধাই মাশরাফিকে আটকে রাখতে পারেনি। স্কুলের ক্রিকেট, নড়াইলের ক্রিকেট ঘুরে তিনি পৌঁছে যান বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ দলে। ততদিনে মাশরাফি আর উইকেটরক্ষক নন, হয়ে গেছেন পেস বোলার।
10:46 AM
ABC

Posted in:
0 comments:
Post a Comment