Tuesday, October 31, 2017

পথেই যাদের জীবন

আজকের কোমলমতি শিশু, আগামীর স্বপ্ন সম্ভাবনাময় আলোকিত স্বপ্নীল ভবিষ্যৎ। সূর্যালোকের আলো হয়ে রাঙিয়ে দিবে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ। যে আলোর পরশে জেগে ওঠবে শিশুর ঘুমন্ত মস্তিষ্ক চিন্তার জগৎ। আজকে যদি তারা সঠিক অধিকার পায় ও জীবনের প্রতি জীবনের সম্মান, ভালোবাসা, মমত্ববোধ, মানবতা জাগ্রত হয় তাহলে তাদের আলোয় আলোকিত হবে সকল দেশের রাণী আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতে আরো এগিয়ে যাবেই। ধূসর পৃথিবীর আকাশে জমাট কালো মেঘমালা একসময় বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে। সেই বৃষ্টি কখনো প্রশান্তির কখনো অশান্তির। আজকের শিশুরা শৈশবে মেঘমালার মতো জমাট বাঁধে। আমরা চাই শিশুর আকাশে জমাট বাধা কালো মেঘমালা যেন প্রশান্তির বৃষ্টি হয়ে ঝরে। প্রশান্তির বৃষ্টিতে মিশে একাকার হয়ে যাবে তাদের কষ্টগ্লানির বিষাদময় গল্প। নগরীর বিভিন্ন জায়গা একদল শিশু কিশোরদের দেখতে পাওয়া যায় রাস্তায় থাকছে, খাচ্ছে এবং ঘুমাচ্ছে। জীবনের আনন্দ উল্লাস, সুখ দু:খের গল্প ,জীবনের শিক্ষা, হারানোর গল্প, প্রাপ্তির হাসিখুশি, অপ্রাপ্তির লম্বা হিসেব সবই খুঁজে নেয় পথের ধারে। বাবা মায়ের আর্থিক দূরাবস্থা ,কারো বাবা নেই, কারো মা নেই, অথবা উভয়েই ইহলীলা সাঙ্গ করে পাড়ি জমিয়েছেন ঐ পাড়ে আর এপাড়ে রেখে গিয়েছেন অসহায় শিশু সন্তান। যাদের অনেকেই নিরুপায় হয়ে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ক্ষুধার যন্ত্রনায় পথের ধারে বসে থাকে কিছু পাওয়ার আশায়। মানুষও সহানুভূতিশীল হয়ে সাহায্য করে যে যার মত করে কিন্তু এই সাহায্য সাময়িক কিন্তু কী আছে তাদের ভবিষ্যতে? এর সঠিক উত্তর কে জানে? আমি, আপনি না আমাদের বাংলাদেশ। আমি, আপনি, সবাই মিলেই আমাদের লাল সবুজের ভালোবাসার প্রিয় আমাদের সোনার বাংলাদেশ। আমরা এক মহান জাতি। ৪৭’র দেশভাগ, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণ অভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী এক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রচিত হয় রক্তে লেখা লাল সবুজের অপরূপ স্বগীর্য় সৌন্দর্যময় বাংলাদেশ। মুক্তি সংগ্রামের বেদনাবিধুর ইতিহাস আর ত্যাগের মহিমায় পূর্ণতা পেয়েছে আমাদের স্বদেশ। সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে পারতাম হয়ত পথশিশু সমস্যা কিছুটা হলেও  হ্রাস পেত। আমাদের বৃত্ত ভাঙার সুরতাল বাজানোর সময় এসেছে। সব প্রথা, সব সংকীর্ণ বৃত্ত ভেঙে দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে পথশিশুর কল্যাণে।
আমরা অনেক সময়ই শিশুদের জন্য কাজ করতে আগ্রহী হই কিন্তু জীবনের বিভিন্ন স্তরে পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে পিছু থমকে যেতে হয় আমাদের। আমাদের থমকে যাওয়াতেই ইতি ঘটে যত মহৎ উদ্যোগ। এইতো শীতের রাতে দেখলাম একটি ছোট্ট ছেলে তার চেয়ে বয়সে কম আরেকটি ছোট্ট ছেলেকে কোলে রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে রাস্তায়। মানুষ চলাচল করছে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে, গাড়ির বিরক্তিকর আওয়াজ, শীতের প্রকোপ সবকিছুর পরও দুটি শিশু ঘুমিয়ে আছে পথের ধারে। বড় শিশুটি আগলে রেখেছে ছোট শিশুটিকে পরম মমতায় উঞ্চতায় চাদরে, ¯েœহপূর্ণ আদরে। শত ব্যস্ততা, আনন্দ উল্লাস, জীবনের জয়যাত্রা, সাফল্যের গল্প কিংবা ব্যর্থতার চিহ্ন সকল কিছু এদের পাশ দিয়ে চলে যায় কিন্তু পথের ধারেই কাটে ঐ দুটি শিশুর দিনরাত্রির অসমাপ্ত গল্প। ঐ দুটি শিশুর মতো সকল অসহায় শিশুদের পথেই রাত কাটে, দিন কাটে। আমরাও থমকে যাই বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক যাতাকলে নিষ্পেষিত হয়ে নিরবে কিংবা জীবনের হৈ চৈ আনন্দ উল্লাসে ভুলে যাই ওদের কথা। যার হারায় সেই বুঝে হারানোর বেদনা। এইসব পথশিশুরা বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, ফুটপাতে অহেতুক ঘোরাঘুরি, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে থাকে।
এরাই পথশিশু, পথফুল। পথেই ফুটে, পথেই থাকে, পথেই ঝরে অবহেলায়, অযতেœ, অনাদরে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ২০১১ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আঝে যেসব শিশু রাস্তায় দিনাতিপাত করে, রাস্তায় কাজ করে, রাস্তায় ঘুমায়। যাদের নির্দিষ্ট কোন আবাসস্থল নেই, প্রতিদিনের জীবনযাপন রাস্তাকে কেন্দ্র করে এবং আঠারো বছরের নিচে তারাই পথশিশু। জাতিসংঘের তথ্য বলে- বিশ্বে পথশিশু রয়েছে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন। ১৯৫৯ সালের ২০ নভেম্বর শিশু অধিকার সুরক্ষার জন্য সনদ ঘোষণা করে জাতিসংঘ। সনদে উল্লেখ করা হয় শিশুদের থাকবে জন্মসূত্রে নাম জাতীয়তার অধিকার, বড়দের থেকে ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার, সুস্বাস্থ্য ও  পুষ্টি লাভের অধিকার। দুর্যোগের সময় সুরক্ষার অধিকার, খেলাধুলা, বিনোদন অধিকার, শারিরিক, মানসিক, নৈতিক অধিকার, কষ্টকর শ্রমে যুক্ত না করার অধিকার, বিশ্ব ভ্রাতৃত্বে বেড়ে ওঠার অধিকার এবং জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মৌলিক অধিকার । ২.৫ মিলিয়ন শিশু স্যানিটেশন ব্যবস্থা বঞ্চিত। ২৩০ মিলিয়ন শিশু আছে যাদের নেই অধিকার প্রাপ্তির সুযোগ। ৩৫ মিলিয়ন শিশু জীবনঘাতক এইচআইভি এইডস ভাইরাস নিয়ে বেঁচে আছে এই পৃথিবীতে। এরা এখনো জীবনের স্বর্ণালী সময় পেরোয়নি।
শিশুদের কল্যাণে ১৯৭৪ সালের ২২ জুন জাতীয় শিশু আইন (চিলড্রেন এ্যাক্ট) জারি করেছিলেন। যার মাধ্যমে শিশুদের নাম জাতীয়তার অধিকারের স্বীকৃতি.সব ধরণের অবহেলা, শোষণ, নিপীড়ন, নিষ্ঠুরতা, নির্যাতন, মন্দ কাজে লাগানো ইত্যাদি থেকে নিরাপত্তার অধিকার  নিশ্চিত করা হয় কিন্তু এখনো প্রকৃত শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি আমাদের সমাজে, আমাদের দেশে, আমাদের বিশ্বে। জাতিসংঘের শিশু সনদ ও শিশু আইন-২০১৩ অনুসারে ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু বলা হয়। বিভিন্ন তথ্য মতে আমাদের দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪৫% শিশু। সবুজ শ্যামল এই অপরূপ দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৭৯ লাখ। বেলা যায় বেড়ে। ক্রমেই বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা, পথ শিশুর সংখ্যা। কেউ লেগুনা কিংবা বাসের হেল্পার, কেউ চা অথবা পিঠাপুলির দোকানে ছোট্ট বিক্রেতা, পথের ধারে জীবনের রঙমাখা স্বপ্নময় দিনরাত্রির গল্প বলা কোন অসহায় পথ শিশু। পথ শিশুর নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই, নেই চিকিৎসা  কিংবা নেই জীবন সাজানোর মাধ্যম শিক্ষার সুযোগ। জীবন যেখানে রাস্তার ধূলায় মলিন হয়, সেখানে আবার বৃহৎ প্রত্যাশা শুধু হতাশা ছাড়া আর কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না। পথের ধারে জীবন কেঁটে যায় অবহেলায় অযতেœ অনাদরে। জীবনের যত স্বপ্ন স্বাদ  হয়ে ওঠে দুচোখের বিন্দু বিন্দু নোনাজল। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও মোস্ট এ্যাট রিস্ক এ্যাডেলেসেন্ট (এমএআরএ) নামের প্রতিষ্ঠান দুটি ২০১২ সালে একটি জরিপ করে। সেই জরিপে  পথশিশুর সংখ্যা উল্লেখ আছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার পথ শিশু। বেসরকারীভাবে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে উল্লেখ পথ শিশুর সংখ্যা দশ লাখের চেয়েও বেশি। শিক্ষা,খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান জীবনের সকল অধিকার থেকে যারা বঞ্চিত তাদের রেখে উন্নয়ন আদৌ সম্ভব নয়। যে বয়স ছিল মা-বাবার পরিবারের সদস্যের ¯েœহ ভালোবাসায় বেড়ে ওঠার,স্কুলে পড়তে যাওয়ার, নতুন বইয়ের গন্ধের স্বাদ পাওয়ার, সহপাঠীর সাথে আনন্দ উল্লাস করার, বিদ্যালয়ে নতুন নতুন পড়া জানার বুঝার, খাতাকলমে লিখতে পারার নিজের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা অথবা পাঠ্য বিষয়ের কোনকিছু অথচ সেই সব শিশুরা জীবন অতিবাহিত করে পথের ধারে অবহেলায় অনাদরে। জীবনযুদ্ধে লড়ে যায় নিরবে নি:শব্দে। সেই নিরবতায়, সেই নি:শব্দতায়ও কানে আসে হারানোর গল্প,হারানোর সুর।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন সাধন হচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে  সাফল্যের  উচ্চশিখরে পৌঁছে যাচ্ছে ধীরে ধীরে সময় ¯্রােতে। একটি ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে আছি আমরা তবে সবার সমবেত চেষ্ঠা ও সরকারের কার্যশীল কর্মই পারে পথশিশুদের জীবনের সাদাকালো দিনরাত্রির গল্পগুলোকে করে তুলতে রঙিন ও স্বপ্নময় । আমাদের দেশে মৌসুমি লোকদের কর্মকান্ড চোখে পড়ার মতো। ঈদ, শীত কিংবা দুর্যোগে সবার জন্য ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। একদিনের ভালোবাসা কী সমাধান হতে পারে বিভিন্ন সমস্যার? সকল সমস্যা দূরীকরণে চাই মানবতাবোধের জাগরণ। পথশিশু সমস্যা দূর করণে বর্তমান সময়ে যাঁরা কাজ করছেন বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া তরুণেরা গড়ে তুলছেন স্বপ্নময় বাংলাদেশ। তাঁদের প্রচেষ্ঠার ফলে কিছুটা হলেও লাঘব হচ্ছে পথশিশুর কষ্ট। যেখানে আশার  প্রদীপ জালাচ্ছেন তরুণেরা ঠিক তেমনি আবার কেউ কেউ সেই প্রদীপে আলো জ্বালাতে গিয়েও পারছেনা কোনক্রমেই বিভিন্ন পারিপার্শি¦কতায়। মৌসুমি কার্যক্রম নয় বরং সরকারি হস্তক্ষেপে সকল প্রাণের উদ্দ্যম কর্মে হ্রাস পাবে পথ শিশুর সংখ্য। পথ শিশুর সংখ্যা হ্রাস পেলে সকল দিকেই সুফলতার দখিনা হাওয়া বয়ে যাবে আমাদের জাতীয় জীবনের জানালায়। সেই দখিনা হাওয়ায় ভেসে যাবে সকল দু:খ শোকের বেদনার লাল নীল কষ্টের গল্প।

ববিতা (অভিনেত্রী) শৈশব জীবনের গল্প।

ফরিদা আক্তার পপি (ববিতা) ১৯৫৩ সালে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলায় জন্ম। তাঁর বাবা নিজামুদ্দীন আতাউব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা বি. জে. আরা ছিলেন একজন চিকিৎসক। বাবার চাকরি সূত্রে তারা তখন বাগেরহাটে থাকতেন। তবে তাঁর পৈতৃক বাড়ি যশোর জেলায়। শৈশব এবং কৈশোরের প্রথমার্ধ কেটেছে যশোর শহরের সার্কিট হাউজের সামনে রাবেয়া মঞ্জিলে। তিন বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়বোন সুচন্দা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, বড়ভাই শহীদুল ইসলাম ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেজভাই ইকবাল ইসলাম বৈমানিক, ছোটবোন গুলশান আখতার চম্পা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং ছোটভাই ফেরদৌস ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। এছাড়াও অভিনেতা ওমর সানী তাঁর ভাগ্নে এবং অভিনেত্রী মৌসুমী তাঁর ভাগ্নে বউ (ওমর সানীর স্ত্রী) এবং অভিনেতা রিয়াজ তাঁর চাচাত ভাই। চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান তার ভগ্নিপতি। তিনি পড়াশোনা করেছেন যশোর দাউদ পাবলিক বিদ্যালয়ে। সেখানে অধ্যয়নকোলে বড়বোন কোহিনুর আক্তার চাটনীর (সুচন্দা) চলচ্চিত্রে প্রবেশের সূত্রে পরিবার সহ চলে আসেন ঢাকায়। গেন্ডারিয়ার বাড়ীতে শুরু হয় কৈশরের অবশিষ্টাংশ। এখানে তিনি গ্লোরিয়া স্কুলে পড়াশুনা করেন। চলচ্চিত্রে অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জন না করলেও ববিতা ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে শিক্ষিত করে তোলেন। দক্ষতা অর্জন করেন ইংরেজিসহ কয়েকটি বিদেশী ভাষায়। নিজেকে পরিমার্জিত করে তোলেন একজন আদর্শ শিল্পীর মাত্রায়।। তাঁর মা ডাক্তার থাকায়, ববিতা চেয়েছিলেন ডাক্তার হতে।

Saturday, October 21, 2017

নায়ক সালমান শাহ শৈশব জীবনের গল্প।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্ম । তাঁর পিতার নাম কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরী। সালমানের দাদার বাড়ি সিলেট শহরের শেখঘাটে আর নানার বাড়ি দারিয়া পাড়ায় । যে বাড়ির নাম এখন ‘সালমান শাহ হাউস’ । তাঁর নানার মূলবাড়ি ছিল মৌলভিবাজারে। তাদের পরিবারটি ছিল সংস্কৃতিমনা।  তাঁর নানা পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। তাই অভিনয় জগতে আসার জন্য ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সবার উৎসাহ, সহায়তা তিনি পেয়েছিলেন। পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় সবার আদরেরও ছিলেন তিনি।
দিন যায় আর আমাদের নায়ক ধীরে ধীরে বড় হতে থাকেন। ভর্তি হন খুলনার বয়রা মডেল হাই স্কুলে। এরপর ১৯৮৭ সালে তিনি ঢাকার ধানমন্ডি আরব মিশন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। সেই সময়ে বন্ধুমহলে সবাই তাঁকে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে চিনত। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লিগীতিতে উত্তীর্ণও হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও ধানমন্ডির মালেকা সায়েন্স কলেজ থেকে বি. কম পাস করেন। সেই সময়েই বন্ধুদের বলতেন তাঁর স্বপ্নের কথা। বলতেন একদিন অনেক বড় অভিনেতা হবেন তিনি।

Tuesday, April 11, 2017

চোখের জলে ভেজা জীবনের গল্প।

রাত আড়াইটা। ঘরের ভেতরে টিমটিম বাতি জ্বলে। কুঁড়েঘরের নড়বড়ে ভাঙা বেড়ার ফাঁক গলে কিছু আলো বাইরে ছড়িয়ে গেল। কুচকুচে কালো আঁধারে উঠানে শুধু এদিক ওদিক করছেন তিনি। মনটা উতাল হয়ে আছে। নবজাতকের প্রথম কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো ভেতর থেকে। অমনি থমকে দাঁড়ালেন। কেউ একজন দরজা খুলে বেরোলেন।
– ছেলে হয়েছে, ছেলে!
বলেই ফিরতি দৌঁড়। লোকটার চোখ ভিজে গেলো। দুটো মেয়ের পর ছেলের বাবা হতে পেরেছেন বলে। চোখে-মুখে বয়ে গেলো এক চিলতে আনন্দ। সেই রাতে খুশিতে আর চোখের পাতা এক হয়নি। হারিয়ে যান ভাবনার অতলে।
২৪ ঘণ্টা না কাটতেই ছেলেটাকে অসুখে পেয়ে বসে। বাবার সেকি চিন্তা! দ্রুত ছুটলেন, নিয়ে এলেন ডাক্তার। ১২০০ টাকা দরকার। কোথায় পাবেন এত টাকা? কপালে চিন্তার ভাঁজ। টাকাটা নিলেন মহাজন থেকে, পরে তাকে পরিমাণ মতো পাহাড়ি বাঁশ এনে দেবেন মর্মে।
অনেক দিনের পুরোনো গল্প। শুনতে গল্প মনে হলেও সত্যি। আশির দশকের শেষ সময়গুলো মানুষটির জীবনে ছিল স্বপ্নের মতো। রাত পোহাবার অনেক আগেই ঘর থেকে বেরোতেন, ফিরতেন সন্ধ্যায় কিংবা রাতে। উঁচু-নিচু গহীন পাহাড়ে ঘুরে ঘুরে বাঁশ কাটতেন। আঁটি বেঁধে কাধে নিয়ে ছুটতেন সমতলের দিকে। সেগুলো বিক্রি করতেন, তাতেই চলতো তাঁর সংসার, তাঁর জীবন।
ছেলেটা বড় হতে থাকে। তাঁর চিন্তাও বাড়ে। ছেলেকে মানুষ করবেন কী করে? দিনে এনে দিনেই শেষ। ভাঙা ঘরটি জোড়া লাগাতেও পারেন না। দমকা বাতাসে উড়ে যায় ছাউনি। কিছু টাকা জোগাড় করে একবার ঘরের ওপরে টিনের ছাউনি দিলেন। একানব্বইয়ের সেই কালরাতে ঝড়ে হারিয়ে যায় সবগুলো টিন। পাশের ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিরাপদেই ছিলেন তিনি।
কদিন ধরে তিনি আর পাহাড় বাইতে পারেন না। তলপেটের ব্যাথাটা দাঁড়াতেই দিচ্ছে না তাঁকে। এই ব্যাথাটাই তাঁর জীবনের বড় ঘাতক! একসময় তিনি শহরে একটি তেলের কারখানায় কাজ করতেন। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলেন। সেই সুবাদে চাকরিটাও মন্দ ছিল না। তাতে কী! তলপেটের ব্যাথা তাঁকে আর চাকরিতে থাকতে দিল না। বাড়িতে কিছুদিন কেটে গেলে জীবনের তাড়নায় ধরেন পাহাড়ের দুর্গম পথ।
বাঁশ কেটে জীবিকা নির্বাহের পথ থেকে সরে আসার পর সংসার চলছিল না। সন্তানদের স্কুলের বই-খাতা, ড্রেস আর দুই বেলা অন্নের সন্ধানে পিনপিনে ব্যাথা নিয়েই পা দেন রিক্শার প্যাডেলে। অশান্তির মেঘ সরতেই চায় না। দুদিন রিক্শা টানেন তো পরের পাঁচদিন ব্যাথায় কোঁকড়ান। ডাক্তার-ওষুধ করেন, তবে চাহিদার দিক থেকে কিছুই না।
এই ফাঁকে আরো একটি ছেলে আসে তাঁর সংসারে। সন্তানেরা বড় হচ্ছে, বাড়ছে তাঁর দুশ্চিন্তাও। দুই মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে, ছেলেটা এক ক্লাস নিচে। হাজারো কষ্টের পাথর বুকে নিয়েও স্বপ্ন দেখেন তিনি। সন্তানেরা মানুষ হবে। তাঁর কষ্ট একদিন সার্থক হবে। বড় আশা নিয়ে দিন-রাত রিক্শার প্যাডেল ঘোরান।
উতাল সেই রাতে পাওয়া ছেলেটাকে ঘিরেই যত স্বপ্ন আঁকেন। কোনো এক শ্রাবণের বৃষ্টিতে ঘরের পাশে জমিতে মাছ ধরা নিয়ে ব্যস্ত ছেলেটি। তখনো সে ফাইভে পড়ে। প্রথম সাময়িক পরীক্ষার পরের ঘটনা। কই মাছ পুঁটি মাছ তাকে পেয়ে বসলো। বাবা ডাক দিলেন- ‘তাড়াতাড়ি গোসল সেরে স্কুলে যা…’। ছেলে আজ জেদ ধরেছে, স্কুলে যাবে না। সে কই মাছ, পুঁটি মাছ ধরবে। বাবার রিক্শার ওপরেই তখন তার অংকের মাস্টার। মাস্টার হেসে বললেন, ‘আরে স্কুলে আসো, তোমার জন্য একটা চমক আছে’।
অগত্যা স্কুলে যেতে হলো ছেলেটিকে। বাংলার ক্লাস শেষে এলেন অংকের স্যার। প্রথম সাময়িক পরীক্ষার খাতা (উত্তরপত্র) হাতে পেয়ে ছেলেটার সে কী আনন্দ! শয়ে শ! ১০০ পেয়ে সে কি উল্লাস। ছেলের ক্রমাগত সাফল্যে বাবাই বেশি আনন্দিত। ছেলেটি তাঁর স্বপ্নের পথেই হাঁটছে বলে।
এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় ছেলের উত্তীর্ণ হওয়ার খবরেও বেশ উচ্ছ্বল তিনি। নিজের রিক্শায় বসিয়ে ছেলেকে স্টুডিওতে নিয়েছিলেন। রেজিস্ট্রেশন কার্ডের জন্য ছবি তুলতে হবে তাই। ছেলেটা বিপথে যায়নি বলে বাবা সবাইকে বুক ফুলিয়ে বলেন। সংগ্রাম করেই তিনি জমি কিনেছেন, নতুন ঘর বানিয়েছেন। এখন আর ঝড়ের মুখে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁকে এ বাড়ি ও বাড়ি ছুটে যেতে হয় না। সন্তানদের মানুষ করতে সংগ্রামী মানুষটির প্রাণপন প্রচেষ্টাও যেন গ্রামের মানুষের কাছে বিস্ময়কর!
বছর পাঁচেক পরের ঘটনা। ছেলে তখনো সংসারের হাল ধরার মতো কিছু করতে পারছিল না। আর এদিকে, তিনি নিজেও আর পারছিলেন না রিক্শার প্যাডেল ঘোরাতে। একদিন মাঝরাস্তা থেকে ছুটে গেলেন ঘরে। চিত হয়ে শুয়ে পড়লেন। বেশ হাঁফাচ্ছিলেন। ছেলেটা বাবাকে নিয়ে গেল হাসপাতালে। বেশকিছু পরীক্ষার পর ডাক্তার জানালেন, অনেক দেরি হয়ে গেছে। সময় খুব একটা নেই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া ভালো।
বাবাকে নিয়ে ছুটে চলল সেই ছেলেটি, যার প্রত্যাশায় কোনো এক কালো রাতে উঠানে এদিক ওদিক করেছিলেন মানুষটি। সপ্তাহখানেক হাসপাতালে থেকে প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নীরিক্ষা সম্পন্ন হলো।
সেই তেলের ফ্যাক্টরিতে থাকতেই তো তার তলপেটে ব্যাথা করত। এই ব্যাথার জন্যেই তো তিনি পাহাড়ে যাওয়া বন্ধ করেছিলেন। আবার যখন জীবনের তাগিদে রিক্শা টানতে শুরু করেন, তখনও ব্যাথাটা ছিল। ব্যাথানাশক ওষুধ খেয়ে খেয়ে তিনি আরো সর্বনাশ করে ফেলেন। তাঁর শরীরের চালিকাশক্তি দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেল! এখন দুটো উপায়। কিডনি দুটো ফেলে অন্তত একটি প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। নতুবা ডায়ালাইসিস। তবে দুটোই ব্যায়বহুল।
প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কিডনি পাওয়ারও একটা ব্যাপার আছে। ছেলেটি বাবাকে বাঁচাবার জন্যে নিজের একটি কিডনি দিতেও ব্যাকুল ছিল। লাভ হলো না। পরীক্ষার পর ডাক্তার জানালেন, ছেলের কিডনি বাবার শরীরে মিলবে না। নিরুপায় হয়ে বাবাকে নিয়ে ফিরতি পথ ধরলো ছেলে। বুকভরা হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস।
চার মাস পর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিছানায় ছটফট করতে থাকেন তিনি। ছেলের কোলে মাথা রেখে বহুবার কি যেন বলতে চেয়েছেন। পারলেন না। অপলক চেয়ে থাকেন। ছেলেটা সইতে পারে না। অন্যদিকে মাথা ঘুরিয়ে নেয়। বাবার গাল ভিজে যায় দু চোখের বৃষ্টিতে। বৃহস্পতি রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বারবার এই দৃশ্যের অবতারণা ঘটতে থাকে। একপর্যায়ে ছেলের কোলেই ঘুমিয়ে পড়লেন বাবা। জীবনের শেষ ঘুম। আর জাগতে পারলেন না।
ছেলেটি এখন বাবার স্বপ্নের সমান বড়। জীবনের পথে যতদূর হাঁটে, মনে পড়ে বাবাকে। বাবাই যেন তাকে নিয়ে চলে আগামীর দিনে। কোনো এক কোরবানির ঈদে বাবাকে জড়িয়ে ধরে থাকার স্মৃতিটা ছেলেকে ফিরিয়ে নেয় সেই দিনগুলিতে। নবজাতক ছেলের চিকিৎসার জন্য পরবর্তী চব্বিশটা দিনের পরিশ্রম আগাম বিক্রি, ছেলের জীবন বাঁচাতে মধ্যরাতে ছুটে চলা, মাছ ধরা বন্ধ করে স্কুলে পাঠানো… সবই যেন ফিরে ফিরে আসে।
দেখতে দেখতে সাতটি বছর কেটে গেলো। সংগ্রামী মানুষটি নিশ্চয়ই স্বর্গ থেকে চেয়ে চেয়ে দেখছেন। ছেলের সাফল্যে হাসেন। আর ছেলেটি? প্রতিটি মুহূর্তে বাবাকে মনে করে চোখের জল ফেলে নীরবে। সুসময়ে বাবাকে কাছে পেল না বলে। নিজেকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শাস্তি দেয়, কেন তুমি বাবাকে বাঁচাতে পারলে না?
ছেলে এখন বড় হয়েছে। এখন সে নিজেও বাবা। তবে তার কাছে বাবাই মহান। কারণ, সেই বাবা তাকে এমন একটি জীবন দিয়ে গেছেন, যে জীবনের পথে হেঁটে আসা ছেলেটিকে নিজের নবজাতক সন্তানের প্রথম কান্নার আওয়াজটা শুনতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়নি ভাঙা ঘরের বাইরে কুচকুচে কালো অন্ধকারে!

শাহরুখ – গৌরীর প্রেম: সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

অভিনয় জগতের ব্যক্তিদের প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ নিয়ে তারা বরাবরই মিডিয়ায় আলোচিত হয়ে আসছেন। তাদের এই প্রেম-ভালোবাসা এবং বিয়ে সাধারণ দর্শকদের কাছে অনেকটাই নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপিত হয়। এর কারণ তাদের অনেকেই সকালে একজনের সাথে প্রেম করে তো বিকেলে আরেকজনের সাথে ঘর বাঁধেন তো তার পরের দিন তাকে ছেড়ে অন্য আরেকজনের প্রেমে হাবুডুবু খান। তবে বলিউড কিং শাহরুখ খানের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণই ব্যতিক্রম। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে স্কুল জীবনের প্রেমিকা গৌরীর সাথে সংসার করছেন বলিউড কিং শাহরুখ। তবে মাঝখানে অনেক ঝড় তাদের সুখের সংসারে হানা দিয়েছিল। বিশেষ করে শাহরুখ খান হলেন একজন মুসলমান এবং গৌরী হলেন হিন্দু। ধর্মীয় এই দেওয়ালটিই তাদের জীবনে সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিল। কিন্তু তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার কাছে কোনো ঝড়ই টেকে নি।
সময়টা ছিল ১৯৮৪ সাল। শাহরুখ ও গৌরী একই স্কুলে পড়াশোনা করতেন। শাহরুখের বয়স তখন প্রেম কি জিনিস তা
বুঝতে পারলেও গৌরীর বয়স এসময় একেবারেই অপরিপক্ক ছিল। সে সময় শাহরুখের বয়স ছিল ১৯ বছর এবং গৌরীর বয়স ১৪ বছর। তাদের পরিচয়টা কিন্তু স্কুল থেকে হয় নি। একটি অনুষ্ঠানে তাদের দুজনের প্রথম দেখা হয়। প্রথম দেখাতেই গৌরীকে মনে ধরে যায় শাহরুখের। সেই অনুষ্ঠানেই গৌরীকে প্রেম প্রস্তাব দেওয়ার জন্য এক বন্ধুর সহায়তা নেন। বন্ধুর মাধ্যমে সে গৌরীকে জানায় যে শাহরুখ তার সাথে নাচতে চায়। কিন্তু গৌরী শাহরুখের সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। গৌরী বলেছিল সে তার প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু পরে জানা যায় গৌরী তার ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরবর্তীতে শাহরুখ নিজে গিয়েই গৌরীকে জানায় সেও তার ভাই হতে চায়। এভাবেই শুরু হয় শাহরুখ-গৌরীর প্রেম কাহিনী।
শাহরুখের সাথে গৌরীর প্রেমের সম্পর্ক হয়ে গেলেও গৌরী ভয়ে তা তার পরিবারকে জানাতে পারেন নি। কারণ গৌরীর বাবা ছিলেন আগাগোড়া একজন ব্রাহ্মণ। এজন্য তাদের এই প্রেম-ভালোবাসা লুকিয়েই চলছিল। তবে ভয় সবসময় তাদের সাথে সাথেই থাকতো। সবচেয় ভয় ছিল গৌরীর ভাই।  
এভাবে কিছুদিন চলার পর একদিন শাহরুখ গৌরীদের বাড়িতে অনুষ্ঠিত এক পার্টিতে চলে যান। শাহরুখ সেখানে নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দেন। এভাবে দীর্ঘ ৫ বছর লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম চলে তাদের দুজনের মধ্যে।

ভালোবাসার সম্পর্কে টানাপোড়েন:
শাহরুক গৌরীকে নিয়ে অনেক বেশি আধিপত্য বিস্তার করতো। চুল খোলা অবস্থায় গৌরীকে দেখলেও তার উপর চটে যেতেন। আরও অনেক ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গৌরী শাহরুখের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং শাহরুখকে না জানিয়েই বন্ধুদের সাথে মুম্বাই চলে যায়। এরপর শাহরুখ গৌরীর মাকে তাদের ভালোবাসার কথা জানান। শাহরুখের কথা শুনে গৌরীর মা শাহরুখকে ১০ হাজার রুপি দিয়ে বলেন ‘যাও তোমার প্রেমিকাকে খুঁজে নিয়ে আসো’।
এরপর শাহরুখ চলে যায় মুম্বাই। কিন্তু এত বড় মুম্বাই শহরে কোথায় খুঁজবে গৌরীকে। শাহরুখ আগে থেকেই জানতেন সমুদ্র গৌরীর খুব পছন্দ। এজন্য বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে খুঁজতে থাকেন গৌরীকে। একদিন আকসা সমুদ্রসৈকতে ঠিকই তিনি গৌরীর সন্ধান পেয়ে যান। সামনাসামনি হতেই তাঁরা দুজনই কাঁদতে শুরু করেন। সেই মুহূর্তে গৌরী উপলব্ধি করেন, শাহরুখ তাঁকে কতটা ভালোবাসেন! মূলত তখনই আজীবনের সঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন এই প্রেমিক যুগল।
এরপর গৌরী সিদ্ধান্ত নেন সে তার বাবা-মাকে তাদের সম্পর্কের কথা বলবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গৌরী তার বাবা-মাকে তাদের সম্পর্কের কথা জানান। বাবা-মা আপত্তি না করলেও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা এ নিয়ে আপত্তি তোলেন। কিন্তু শাহরুখ – গৌরীর ভালোবাসার কাছে সকল বাঁধা হার মেনে যায়।

বিয়ে:
১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর হিন্দু রীতি অনুযায়ী শাহরুখের হাতে মেয়েকে তুলে দেন গৌরীর বাবা-মা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর গৌরীকে উদ্দেশ করে শাহরুখ বলে ওঠেন, ‘চলো, নামাজের সময় হয়েছে।’ শাহরুখের মুখে এই কথা শুনে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত গৌরীর পরিবারের সদস্য ও বন্ধু-বান্ধবরা। তখন হাসতে হাসতে শাহরুখ বলেন, ‘আমি স্রেফ মজা করার জন্যই এটা বলেছি।’ তবে দুজনের ধর্ম ভিন্ন ভিন্ন হলেও কারো ধর্মকেই কেউ অবহেলা করেন না। দুজনেই যেমন ঘটা করে পূজা পালন করেন তেমনি ঘটা করে ঈদও পালন করেন।

সংসার:
তাদের দুই সন্তান, ছেলে আরিয়ান খান (জন্ম ১৯৯৭) ও মেয়ে সুহানা খান (জন্ম ২০০০)। ২০১২ সালে শাহরুখের তৃতীয় সন্তান আব্রাম জন্মগ্রহন করে। মাঝে বলিউডের অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে ঘিরে শাহরুখের ঘনিষ্ঠতার খবর চাউর হওয়ায় শাহরুখ-গৌরীর সংসারে অশান্তির ঝড় উঠলেও, পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সমস্যা মিটিয়ে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করেছেন শাহরুখ-গৌরী। দীর্ঘদিন এক ছাদের নিচে বসবাস করে ভালোবাসা, পারস্পরিক সমঝোতা এবং বিশ্বস্ততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সফল এ দম্পতি।

বলিউডের সেরা দম্পতি:
বলিউডের সেরা দম্পতি নির্বাচিত হয়েছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান ও গৌরী। এ দম্পতি ৪৫.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছেন। ২০১৩ সালে ভারতের ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটের করা এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটটি বলিউড সেলিব্রেটি দম্পতিদের মধ্যকার সম্পর্কের ধরনের ওপর এ জরিপ চালিয়েছে।



Sunday, April 9, 2017

ফেসবুক কোথা থেকে এবং কিভাবে আসলো।

আমরা আজ যে ফেসবুক ব্যবহার করি তার শুরুটা হয়েছিল “ফেসম্যাস (FACEMASH)” নামক একটি সাইট দিয়ে। মার্ক জুকারবার্গ অনেকটা শখের বশেই ফেসম্যাস ডট কম নামের একটি সাইট তৈরি করেন। সময়টা ছিল ২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর। এসময় জুকারবার্গ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার তৈরি “ফেসম্যাস(FACEMASH)” নামক এই সাইটে হার্ভার্ডের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের ছবি আপলোড করতেন এবং ভোট দিতে বলতেন কোন ছবিটি হট আর কোনটি হট নয়। এসব ছবি সংগ্রহ করার জন্য জুকারবার্গ হার্ভার্ডের সংরক্ষিত তথ্য কেন্দ্র হ্যাক করেন। প্রথমদিকে মাত্র ৪ ঘণ্টায় ৪৫০ ভিজিটর ২২০০০ ছবিতে অন লাইন এর মাধ্যমে ভোট দেন। কিন্তু পরবর্তীতে হার্ভার্ড এর শিক্ষার্থীদের বাঁধার মুখে সাইটটি বন্ধ করে দিতে হয়।
 (FACEMASH)” এর অবয়ব ছিল এরকম
ফেসবুকের পরের ঘটনা বিতর্কে ভরা:
পরবর্তীতে “ফেসম্যাস (FACEMASH)” সাইটটি “দি ফেসবুক (The Facebook)” নামে রূপান্তরিত হয়। তবে বিভিন্ন সাইট থেকে জানা যায় “ফেসম্যাস (FACEMASH)” সাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জাকারবার্গ “দি ফেসবুক (The Facebook)” নামের সাইটটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন এবং সে মোতাবেক জুকারবার্গ কোড লেখা শুরু করেন।
 
তবে অন্য কিছু সাইট থেকে জানা যায়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে “হাউজ সিস্টেম” নামে একটি ওয়েব সার্ভিস ছিল এবং “দি ফেসবুক (The Facebook)” সেই হাউজ সিস্টেম এরই একটি কনসেপ্ট ছিল। ২০০৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এরন গ্রীন্সপ্যান নামে এক শিক্ষার্থী হাউজ সিস্টেমে এই কনসেপ্ট আনেন।  
 
অপরদিকে জানা যায়, “ফেসম্যাস (FACEMASH)” সাইটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জুকারবার্গ তার কিছু বন্ধুদের জন্য হার্ভার্ড কানেকশন নামে একটি সাইটে কাজ শুরু করেন। বন্ধুরা হলেন – ক্যামেরুন, টেলর ও ডিভিয়া। এই বন্ধুরাই পরবর্তীতে জুকারবার্গের বিরুদ্ধে আইডিয়া চুরির অভিযোগ আনেন। তাদের দাবি ছিলো – “দি ফেসবুক” এর কনসেপ্ট ছিলো “হার্ভার্ড কানেকশন” এর।
 
দি ফেসবুকের যাত্রা শুরু:
২০০৪ সালের ১১ই জানুয়ারী জুকারবার্গ “দি ফেসবুক ডট কম” নামে ডোমেইন কিনেন। “দি ফেসবুক ডট কম” তৈরিতে জুকারবার্গের সাথে কাজ করেন তার কিছু রুমমেট। তারা হলেন এডুয়ারড সারভেরিন,আন্ড্রো ম্যাক্কোলাম, ডাস্টিন মস্কভিটয।
 
বিতর্কের আবার শুরু:
“দি ফেসবুক” যাত্রা শুরু করে ২০০৪ সালের জানুয়ারীতে। ঠিক তার ছয়দিনের মাথায় তার সেই বন্ধুরা তার বিরুদ্ধে আইডিয়া চুরির অভিযোগ এনেছিল। সেসময় এ নিয়ে তেমন আর কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হলেও ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এসে জুকারবার্গের সেই তিন বন্ধু ক্যামেরুন, টেলর ও ডিভিয়া মামলা করে বসে দি ফেসবুকের নামে। 
এই সেই তিন বন্ধু। যারা মামলা করেছিল। ছবিতে ডানে ক্যামেরুন, মাঝের জন হচ্ছেন ডিভিয়া এবং বামে টেলর
 
দি ফেসবুকের উত্তরোত্তর ইউজার বৃদ্ধি:
মার্ক জুকারবার্গ যখন “দি ফেসবুক” নামে নতুন সাইট চালু করেন তার পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ১২০০ জন শিক্ষার্থী এতে রেজিস্ট্রেশন করেন। প্রথমদিকে এটি শুধুমাত্র হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও ২ মাসের মাথায় হার্ভার্ড ছড়াও আরো বেশ কিছু কলেজে দি ফেসবুক পরিচিতি পায়। জুন মাসের মধ্যে সাইটে প্রায় দেড় লাখ ( ১,৫০,০০০ ) ইউজার ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করে এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১ মিলিয়ন এ। তবে এ সময় শুধুমাত্র ১৩ বছরের উপরের বয়সের ছেলে ও মেয়েরা এটি ব্যবহার করতে পারতেন।
  • ২০০৪ সালে ফেসবুকে কোনো ছবি, ওয়াল, নিউজ ফিড, ইভেন্ট, পেজ ছিল না।
 
ফেসবুকের যাত্রা শুরু:
প্রথমে “ফেসম্যাস (FACEMASH)”, তারপর “দি ফেসবুক (The Facebook)” এবং অবশেষে ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে জুকারবার্গ শ্রুতিমধুর নামের কারণে “দি ফেসবুক (The Facebook)” কে সংক্ষিপ্ত করে “ফেসবুক (Facebook)” রাখেন এবং এই নামে একটি ডোমেইন কিনেন। তবে এজন্য খরচ হয়েছিল দুই লাখ মার্কিন ডলার।
  • ২০০৫ সালে ফেসবুকে ছবি যোগ করার সুবিধা চালু হয়।
  •  
  • উপরের ছবিতে যে ফেসটি দেখা যাচ্ছে সেটি হচ্ছে ফেসবুকের প্রথম ফেস।  ওনার নাম আল পাসিনো
     
    ২০০৫ সালটি ছিল ফেসবুকের লোকসানের বছর:
    ২০০৪ সালের জুন মাসে পেপাল এর ফাউন্ডার ফেসবুকের ১০ দশমিক ২ পারসেন্ট এর শেয়ার কিনে নেয় পাঁচ লাখ ইউ এস ডলারে। ২০০৫ এর মে মাসে এক্সেল পারটনারস ১২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করে দি ফেসবুক ডট কমে। তারপরও ২০০৬ সালের এক হিসাবে দেখা যায় ২০০৫ সালে ফেসবুক সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলারের উপরে লস করে।
  • ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে বন্ধু বানানোর পদ্ধতি চালু এবং একই বছর মোবাইল ফোন থেকে ব্যবহারের সুবিধা চালু হয়।
 
ফেসবুকের সাথে মাইক্রোসফটের যুক্ত হওয়া:
২০০৭ সালে মাইক্রোসফট ২৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ফেসবুকের এক দশমিক ছয় পারসেন্ট কিনে নেয়। একই বছর হংকং এর এক লোক ষাট মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন ফেসবুকে।
  • ২০০৭ সালে ভার্চুয়াল গিফট দেওয়া চালুর পাশাপাশি নেটওয়ার্ক পাতা চালু, বন্ধুদের সর্বশেষ তিনটি হালনাগাদ হোম পেজ থাকা, একই সঙ্গে সব বন্ধুর হালনাগাদ দেখার সুবিধা, বন্ধুদের হালনাগাদের আরএসএস ফিড চালু, বন্ধুদের হালনাগাদ এসএমএসে পাওয়ার সুবিধা, এসএমএস পাঠিয়ে ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেওয়ার সুবিধা চালু হয়। এছাড়া একই বছরে চালু করা হয় ফেসবুক ভিডিও, আইফোনের জন্য ফেসবুক সাইট, ব্যবসার কাজে ব্যবহারের জন্য ফেসবুক পেজ এবং সোশ্যাল অ্যাডস চালু হয়।
 
অবশেষে আইনী সমস্যার সমাধান:
ফেসবুকের বিরুদ্ধে আইডিয়া চুরির যে মামলাটি মার্ক জুকারবার্গের বন্ধুরা করেছিল সেই মামলার সমাধান ২০০৮ সালে সম্পন্ন হয় এবং একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি হিসেবে ফেসবুক সে সময় ৫ (পাঁচ) বিলিয়ন ডলারের কোম্পানীতে রূপান্তরিত হয়।
  • ২০০৮ সালে বিভিন্ন অ্যাপস যুক্ত ও স্প্যাম প্রতিরোধের সুবিধা চালু করা হয়। একই বছরের মার্চ মাসে  নতুন প্রাইভেসি বৈশিষ্ট্য চালু করা হয়। পাশাপাশি মে মাসে ফেসবুকে ব্যবহারকারীর পাতার পাশে ‘পিপল ইউ মে নো’ চালু, ইউটিউবের ভিডিও রাখার সুবিধা চালু। ৫৫টি নতুন ভাষায় ফেসবুক চালু, আইফোনের জন্য ফেসবুক অ্যাপস চালু।
  • ২০০৯ সালে ফেসবুকে নতুন তেমন কোনো ফিচার সংযুক্ত হয় নি।
  • ২০১০ সালে ফেসবুকে যুক্ত হয় নতুন টপ মেনু, নতুন বামের মেনু, সহজে ছবি আপলোড করার উন্নত সুবিধা। কমিউনিটি পেজ চালু, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপসে স্থান ও গ্রুপ করার সুবিধা, ফেসবুকে মেসেজিংয়ের উন্নত সুবিধা। ডিসেম্বরে ফেসবুকের প্রোফাইলের নতুন চেহারা, চেহারা চিহ্নিত করার ট্যাগিং-সুবিধা চালু।
  • ২০১১ সালে ফেসবুক চ্যাটের সঙ্গে ভিডিও সুবিধা চালু করা হয়। এছাড়া গেমসের উন্নতকরণ এবং ফেসবুকে সাবস্ক্রাইবার বোতাম এবং মোবাইলের জন্য টাইমলাইন চালু করা হয়।
  • ২০১২ সালের জানুয়ারিতে বন্ধুদের সঙ্গে গান শোনার সুবিধা, টাইমলাইনের জন্য অ্যাপস চালু। 
ফেসবুকের রং কেন নীল?
এটি একটি কমন বিষয়। কেননা ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ বর্ণান্ধত্বের সমস্যায় ভুগছেন। অর্থাৎ, রং চিনতে অসুবিধা হয় তার। সে জন্যই রঙের ক্ষেত্রে নীলকে ফেসবুকের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে।
 
হ্যাকিংয়ের শিকার ফেসবুক:
জনপ্রিয় এই মাধ্যমটি বেশ কয়েকবার হ্যাকিং এর শিকার হয়েছে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে এই হ্যাকিং এর দুর্ঘটনাটি ঘটে। এছাড়া একবার স্বয়ং মার্ক জুকারবার্গের আইডিও হ্যাক করা হয়েছিল।
 
ফেসবুকের শেয়ার হোল্ডারদের তালিকা:
  • মার্ক জুকারবার্গ - ২৪%
  • এক্সেল পার্টনার -১০%
  • ডিজিটাল স্কাই টেকনোলোজিস - ১০%
  • ডাস্টিন মস্কোভিৎজ - ৬%
  • এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন - ৫%
  • শণ পার্কার - ৪%
  • মাইক্রোসফট - ১.৫%
  • কর্মচারী, বিভিন্ন তারকা এবং বহির্ভূত মালিকানা ৩০%
  • অন্যান্য - ৯.৫%
    
ভাষা:
সারা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষীদের জন্য ফেসবুক  ৭০টিরও বেশি ভাষা সাপোর্ট করে। যেমন - Catalan, Chinese (সাধারণ), Chinese (হংকং), Chinese (তাইওয়ান), Czech, Danish, Dutch, English (মার্কিন), English (ব্রিটিশ), English (Pirate), Filipino, Finnish, French, German (জার্মান), Greek, Hungarian, Indonesian, Italian, Japanese, Korean, Malay, Norwegian, Polish, Portuguese, Portuguese language (ব্রাজিলীয়), Romanian, Russian, Slovene, Spanish, Swedish, Thai, Turkish, Welsh ছাড়া আরও অনেক ভাষা রয়েছে।
 
ফেসবুক অফিস:
ফেসবুকের শুরুটা হয়েছিল হার্ভার্ডের এক ডরমেটরিতে। পরবর্তী সময়ে ফেসবুক যখন অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তখন ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটোতে ফেসবুকের অফিস স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কে ফেসবুক ক্যাম্পাস স্থানান্তর করা হয়।

 এটিই হচ্ছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ডরমেটরি, যেখান থেকে ফেসবুকের শুরু


বাম পাশের ছবিটি পালো আলটোর এবং ডান পাশের ছবিটি মেনলো পার্কের
 
ফেসবুকের কর্মকর্তাগণ:
মুখ্য ব্যক্তি মার্ক জাকারবার্গ প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ডাস্টিন মস্কোভিতস সহ-প্রতিষ্ঠাতা, শেরিল স্যান্ডবার্গ প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, ম্যাট কোহলার ভাইস প্রেসিডেন্ট পণ্য ব্যবস্থাপনা, ক্রিস হিউজ সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

ফেসবুকের লাইক বাটন নিয়ে ঝামেলা:
ঝামেলা যেন ফেসবুককে কিছুতেই ছাড়তে চায় না। ফেসবুকে আমরা যেই লাইক বাটনটি দেখছি সেটির বিরুদ্ধেও মেধাস্বত্ব লঙ্গনের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে মৃত ডাচ প্রোগ্রামার জোজেভ এভরাডাস ভ্যান মিরের পক্ষ থেকে একটি পেটেন্ট হোল্ডিং কোম্পানি ফেসবুকের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগটি আনে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে দায়ের করা ঐ মামলায় বাদীপক্ষ রেমব্র্যান্ট সোশ্যাল মিডিয়া দাবী করেছে ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাইটে “লাইক” ফিচার ব্যবহারের জন্য এর পেটেন্ট ধারকের কোন অনুমতি নেয়নি। প্রোগ্রামার মিরের পেটেন্ট করা প্রযুক্তির মালিকানা বর্তমানে রেমব্র্যান্টের হাতে। তিনি ২০০৪ সালে তার মৃত্যুর পূর্বে এগুলো ব্যবহার করে একটি সামাজিক যোগাযোগের সাইট “সার্ফবুক” তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যার মেধাস্বত্ব নিবন্ধন হয় ১৯৯৮ সালে, অর্থাৎ ফেসবুক চালু হওয়ার পাঁচ বছর পূর্বে। সার্ফবুক ছিল একটি সামাজিক ডায়েরির মত সেবা, যেটি ব্যবহার করে লোকজন পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করতে পারত। সেখানে তারা “লাইক” বাটন ক্লিক করে বিশেষ কোন কিছুকে সাধুবাদ জানাত। এই সাইটেই প্রথম 'লাইক' বাটন ব্যবহার করা হয়। ফেসবুকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় বলা হয়েছে ফেসবুক এই প্যাটেন্ট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলেও তারা 'লাইক' বাটনকে নিজেদের উদ্ভাবন হিসেবে উল্লেখ করে থাকে, যেটি সঠিক নয়।
 
তবে নভেম্বর ২০১৩ এ ফেসবুক ঘোষণা দেয় যে তারা তাদের লাইক বাটনের ডিজাইন পরিবর্তন করবেন। নতুনভাবে ডিজাইন করা লাইক বাটনে ব্যবহার করা হয়েছে ফেসবুকের এফ লেখা নিজস্ব লোগো। এতে আগের লাইক বাটনের বৃদ্ধাঙ্গুলের ছবিটি না থাকলেও থাকছে ফেসবুকের নিজস্ব লোগোর ছবি। নীলের ওপর সাদার পরিবর্তে সাদার ওপর নীল রঙে তৈরি করা হয়েছে নতুন লাইক বাটনটি।


ফেসবুক অ্যাপস নিয়েও রয়েছে ঝামেলা:
ফেসবুকের অ্যাপস এর বিরুদ্ধে রয়েছে ফোন নাম্বার চুরির অভিযোগ। সময়টা ২০১৩ সালের জুলাই মাস। ফেসবুকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি করে নরটন। তাদের মতে,  এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট ব্যবহারকারীর ডিভাইস থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ফোন নাম্বার চুরি করেছে ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটটির অফিসিয়াল এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশনের মাধ্যমে ফোনবুকের সকল নাম্বার তাদের সার্ভারে পাঠিয়ে দিয়েছে। এজন্য ফেসবুক এপে কোন ব্যবহারকারীর লগ-ইন প্রয়োজন হয়না, এবং এমনকি কোন অনুমতিও লাগেনা। এপটি নিজ থেকেই ফোন থেকে নাম্বার সংগ্রহ করে সেগুলো সার্ভারে পাঠাতে সক্ষম!
 
তবে নরটনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে মার্ক জুকারবার্গের নেতৃত্বাধীন ফেসবুক। তারা বলেছে, উল্লিখিত উপায়ে ফেসবুক সার্ভারে যেসব ফোন নাম্বার কপি করা হয়েছে সেগুলো মুছে ফেলা হচ্ছে।
 
টাইমলাইন নিয়েও রয়েছে ফেসবুকের ঝামেলা:
ফেসবুকে ব্যবহারকারী প্রোফাইলের বর্তমান নাম “টাইমলাইন”নিয়ে অন্য একটি কোম্পানির সাথে আইনী লড়াই চলে আসছিল। ২০১১ সালে ফেসবুক প্রথমবারের মত যখন শব্দগুচ্ছ ব্যবহার শুরু করে তখনই ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন সংক্রান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করে “টাইমলাইন ইনকর্পোরেশন”নামের ঐ প্রতিষ্ঠান। এরপর কোর্টে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং জায়ান্ট “টাইমলাইন”শব্দটির “সাধারণ”ব্যবহার নীতির বৈধতা প্রমাণে ব্যর্থ হয় এবং এটি তাদের একটি “পণ্য/ সেবা”হিসেবে গণ্য হয়।
 
প্রাথমিকভাবে মামলাটিতে এক প্রকার হেরেই গিয়েছিল ফেসবুক। দুই কোম্পানির মধ্যে ট্র্যায়াল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উভয় প্রতিষ্ঠান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছে।
 
ফেসবুক অফিসের আরও কিছু ছবি:
স্ন্যাপচ্যাট - কে কিনতে চেয়েছিল ফেসবুক:
২০১৩ সালের নভেম্বরে ইমেজ ম্যাসেজিংয়ের জনপ্রিয় সাইট স্ন্যাপচ্যাট – কে কিনতে চেয়েছিলো ফেসবুক। এজন্য ফেসবুক ৩০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব করে। কিন্তু স্ন্যাপচ্যাট এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়।
 
স্ন্যাপচ্যাট রাজি হয়ে গেলে এটিই হত ফেসবুকের সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করে কেনা কোনো কোম্পানি। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করা স্ন্যাপচ্যাটের গ্রাহক বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে গত মাস ছয়েক সময়ের মধ্যে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ কোটি ইমেজ আদান-প্রদান হয়ে থাকে এই মোবাইল প্ল্যাটফর্মে।
 
অন্য কোম্পানিকে কিনতে হুমকি-ধমকিও দেয় ফেসবুক:
টুইটারকে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তাও একবার নয় বরং দুইবার টুইটারকে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের মাধ্যমে একবার ও আরেকবার টুইটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসিকে হুমকি দিয়ে। হুমকিগুলো ছিল এরকম - ফেসবুকের কাছে টুইটার বিক্রি না করলে টুইটারের মতোই আরেকটি সেবা নিজেরা চালু করবে ফেসবুক। কিন্তু পরবর্তীতে হুমকি ধমকিতে কোনো কাজ না হওয়ায় টুইটার কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসে ফেসবুক। সেখানে টুইটার কর্তৃপক্ষ টুইটারের তখনকার আর্থিক মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার বলে দাবি করেন। এতে জাকারবার্গ রাজিও ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে টুইটারকে আর কেনা হয়নি ফেসবুকের।
 
২০১৩ সালে টুইটারের আইপিও বা ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ অনুসারে এই কোম্পানির আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১.৯ বিলিয়ন ডলারে।
 
ফেসবুক অফিসের কিছু ছবি:

স্ন্যাপচ্যাট - কে কিনতে চেয়েছিল ফেসবুক:
২০১৩ সালের নভেম্বরে ইমেজ ম্যাসেজিংয়ের জনপ্রিয় সাইট স্ন্যাপচ্যাট – কে কিনতে চেয়েছিলো ফেসবুক। এজন্য ফেসবুক ৩০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব করে। কিন্তু স্ন্যাপচ্যাট এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়।
 
স্ন্যাপচ্যাট রাজি হয়ে গেলে এটিই হত ফেসবুকের সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করে কেনা কোনো কোম্পানি। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করা স্ন্যাপচ্যাটের গ্রাহক বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে গত মাস ছয়েক সময়ের মধ্যে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ কোটি ইমেজ আদান-প্রদান হয়ে থাকে এই মোবাইল প্ল্যাটফর্মে।
 
অন্য কোম্পানিকে কিনতে হুমকি-ধমকিও দেয় ফেসবুক:
টুইটারকে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তাও একবার নয় বরং দুইবার টুইটারকে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের মাধ্যমে একবার ও আরেকবার টুইটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসিকে হুমকি দিয়ে। হুমকিগুলো ছিল এরকম - ফেসবুকের কাছে টুইটার বিক্রি না করলে টুইটারের মতোই আরেকটি সেবা নিজেরা চালু করবে ফেসবুক। কিন্তু পরবর্তীতে হুমকি ধমকিতে কোনো কাজ না হওয়ায় টুইটার কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসে ফেসবুক। সেখানে টুইটার কর্তৃপক্ষ টুইটারের তখনকার আর্থিক মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার বলে দাবি করেন। এতে জাকারবার্গ রাজিও ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে টুইটারকে আর কেনা হয়নি ফেসবুকের।
 
২০১৩ সালে টুইটারের আইপিও বা ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ অনুসারে এই কোম্পানির আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১.৯ বিলিয়ন ডলারে।
 
ফেসবুক অফিসের কিছু ছবি:
গুগল ও ফেসবুকের মধ্যে রয়েছে ঠান্ডা লড়াই:
গুগল আর ফেসবুকের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই দীর্ঘদিনের। ইন্টারনেট দুনিয়ায় ক্লিকের যে হিসেব-নিকেশ, তাতে ফেসবুক ক্রমেই গুগলের কাছে চলে আসছে, যদিও এখনও ফেসবুকের চেয়ে গুগলের ব্যবহারকারী বেশি। কিন্তু বাণিজ্যিক দিক থেকে কিছুক্ষেত্রে গুগলকে পেছনে ফেলেছে ফেসবুক। আর এজন্যই গুগল ফেসবুককে ঠেকাতে নিয়ে আসছে নতুন নতুন অস্ত্র। যার জ্বলন্ত উদাহরণ “গুগল প্লাস”।

মার্ক জুকারবার্গের ব্যক্তিগত কিছু ছবি:


চার্লি চ্যাপলিন এর কৃতিত্ব।

জীবনের প্রথম কৌতুকাভিনয়
চার্লি চ্যাপলিনের মা থিয়েটারে কাজ করতেন। ঘটনাটি চ্যাপলিনের পাঁচ বছর বয়সের। একদিন তার মা মঞ্চে গান গাইছিলেন। আর ছোট্ট চ্যাপলিন বসে বসে মায়ের অভিনীত গীতনাট্য দেখছিলেন। সে সময় লন্ডনের খেটে খাওয়া শ্রমিক, ভবঘুরে কিংবা নেশাতুর লোকেরই বিনোদনের জন্য থিয়েটারে ভিড় জমাতো। মঞ্চে গায়িকা বা নর্তকীর হেরফের হলেই চিৎকার-চেঁচামেচি করে থিয়েটার মাথায় তুলে নিতো। মঞ্চে গান গাইছিলেন চ্যাপলিনের মা হানা চ্যাপলিন। চ্যাপলিনের মায়ের গলায় আগে থেকেই সমস্যা ছিল। গান গাওয়ার এক পর্যায়ে চ্যাপলিনের মায়ের গলার স্বর ভেঙ্গে যায়। বাধ্য হয়ে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান। কিন্তু মঞ্চ ভর্তি দর্শককে বুঝ দেওয়ার জন্য মায়ের জায়গায় চ্যাপলিনকে মঞ্চে ওঠানো হয়। চার্লি তার মায়ের পরিবর্তে স্টেজে গান গাইতে শুরু করেন, 'Jack Jones well and known to every body' । তার গানে দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে স্টেজে কয়েন ছুঁড়তে থাকে । চাপলিন হঠাৎ অঙ্গভঙ্গিসহ বলে ওঠেন, ‘আমি এখন গান গাইব না; আগে পয়সাগুলো কুড়িয়ে নিই, তারপর আবার গাইবো।’ এটি ছিল দর্শকের হাসির জন্য চার্লির প্রথম কৌতুকাভিনয়।

অভিনয় জীবনের শুরু
১৮৯৮ সালে নয় বছর বয়সে চ্যাপলিন একটি নাচের দলে যোগ দেন। ওই দলটি নাচ দেখিয়ে কিছু অর্থ-কড়ি রোজগার করত। সেই রোজগার দিয়েই চ্যাপলিন দিন কাটাতেন। নাচের দলে চ্যাপলিন কমেডিয়ানের ভূমিকা পালন করতেন। ওই নাচের দলেই চ্যাপলিন নিজের মেধার প্রমাণ রাখতে শুরু করেন। তখন চ্যাপলিনের উপর তার সহকর্মীরা ঈর্ষান্বিত বোধ করতে থাকেন। কিন্তু অদম্য চ্যাপলিন শেষ পর্যন্ত নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পেরেছিলেন। ১৯ বছর বয়সেফ্রেড কার্নোথিয়েটার কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ইংল্যান্ড থেকে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে৷ সেখানেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র জগতে রাজ্য বিস্তার শুরু৷ ১৯১৪ সালে ২৫ বছর বয়সে প্রথম সিনেমাতে অভিনয় করেন চার্লি চ্যাপলিন। মুভিটির নাম ছিলমেকিং লিভিং ছবির পরিচালক ছিলেন ফ্রান্সের অরি লোর্মা। এক রিলের এই ছবিটির প্রদর্শনের মেয়াদ ছিল মাত্র দশ মিনিট। এই ছবিতে চার্লি অভিনয় করেন খামখেয়ালি উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির যুবকের। তবে মু্ভিটি মুক্তি পাওয়ার পর ব্যবসায়িকভাবে তেমন সফলতা লাভ করতে পারেনি। তবে অভিনেতা চ্যাপলিন ঠিকই তার অভিনয় দিয়ে প্রশংসা কুড়াতে পেরেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চার্লি চ্যাপলিন মুভি পরিচালনায়ও হাত দেন। ১৯১৪ সালে চ্যাপলিন পরিচালিত ১ম মুভিকট ইন ক্যাবারমুক্তি পায়। মুভিটি সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।ড্রামাটিক মিরবপত্রিকায় লেখা হয়; চার্লির কোনও তুলনা হয় না। তিনি অদ্বিতীয়। একই বছর নিজের লেখা কাহিনী দিয়ে চ্যাপলিন নির্মাণ করেনকট ইন দি রেনমুভিটি। ছবিটিও প্রচুর দর্শক প্রিয়তা লাভ করে ১৯১৫ সালে চ্যাপলিন অভিনয় করেনদ্য ট্র্যাম্পবাভবঘুরেমুভিতে। এই মুভিটি মুক্তির পর চার্লির জনপ্রিয়তা স্রোতের বেগে বেড়ে যায়। এই মুভিতে চ্যাপলিন শুধুমাত্র দর্শকদের মজাই দেন নি, শেষ দৃশ্যে চার্লি তার অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয়কে মোচড় দিয়ে দেন। চার্লির চাপা কষ্টে দর্শকদের মন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এরপর ১৯১৭ সালেদ্য ইমেগ্রান্টনামে একটি মুভি নির্মাণ করে চ্যাপলিন। ১৯১৮ সালে নির্মাণ করেন ডগস লাইফমুভিটি। মুভিটিতে চ্যাপলিন দরিদ্র মানুষের জীবন একটি কুকুরের জীবনের মধ্যে পার্থক্য ফুটিয়ে তোলেন। একই বছর তিনি নির্মাণ করেশোল্ডার আর্মসনামে আরেকটি বিখ্যাত মুভি। ১ম বিশ্বযুদ্ধকে বিদ্রুপ করে এই মুভিটি নির্মাণ করা হয়। ১৯২১ সালে নির্মাণ করেনদ্য কিডমুভিটি। চার্লি চ্যাপলিনের জনপ্রিয়তার পেছনে যেই মুভিটির অবদান অন্যতম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর আমেরিকার বাস্তবচিত্রের এক প্রতিছবি বলা যেতে পারে ছবিটিকে। বিশেষ করে হাজার হাজার অনাথ শিশুদের ভাগ্যে কি ঘটেছিল এবং দারিদ্র্যের কারণে কিভাবে মায়েরা তাদের শিশু সন্তানকে পরিত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছিল তার একটি প্রামাণ্য দলিল বলা যেতে পারে এই ছবিটিকে। এই ছবিতে চার্লি চ্যাপলিন এবং শিশু জ্যাকি কুগানের অভিনয় দর্শকদের বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছিল। ১৯২৪ সালে এসে চ্যাপলিন নির্মাণ করেন তার আরেক জনপ্রিয় মুভিদ্য গোল্ড রাশ এই মুভিটির কাহিনী ছিল ভয়াবহ। ১৮৯৮ সালের স্বর্ণ-অভিযানের একটি সত্যিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চ্যাপলিন ছবিটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছিলেন।  বরফের মরুভূমিতে সোনা পাওয়া যাচ্ছে এমন এক গুজবের উপর ভিত্তি করে ১৫০ জন অভিযাত্রী বরফের মরুভূমিতে পাড়ি জমান। দুর্ভাগ্যক্রমে মাত্র ১৮ জন জীবিত অবস্থায় ফিরে আসতে পারেন। যারা জীবিত ছিলেন তারা মৃতদের মাংস, কুকুরের মাংস এমনকি জুতোও সিদ্ধ করে খেয়েছিলেন। ১৯২৮ সালে চ্যাপলিন নির্মাণ করেনদ্য সার্কাসমুভিটি। এই মুভিটিতে চ্যাপলিন তুলে ধরেনপ্রমোদ শিল্পের অধিপতিদের টাকা রোজগার করার নোংরা নেশাকে। শিল্পী বা শিল্পের প্রতি তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ১৯২৮ সালেই আমেরিকাতে অস্কার পুরস্কার নিয়ম চালু করা হয়। সে বছরই অলরাউন্ডার চার্লি চ্যাপলিনদ্য সার্কাসমুভিটির জন্য লেখক, প্রযোজক, অভিনেতা এবং পরিচালক হিসেবে অস্কার পুরস্কারের সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৩১ সালে চ্যাপলিন যে মুভিটি নির্মাণ করেন সেই মুভিটি দেখার জন্যলস এঞ্জেলসএর থিয়েটার হলে সে সময়ের বিখ্যাত সব অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও ভিড় করেছিলেন। দর্শকের ভিড়ে চলাচলের রাস্তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুভিটির নাম ছিলসিটি লাইটস এরপর তিনি নির্মাণ করেনমডার্ণ টাইমসমুভিটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চার্লি চ্যাপলিন নির্মাণ করেনমঁসিয়ে ভের্দুমুভিটি। এই মুভিটি মুক্তি পাওয়ার বুর্জোয়া সমালোচকরা চ্যাপলিনের পেছনে উঠেপড়ে লাগেন। কেননা চ্যাপলিন এই মুভিটিতে ফুটিয়ে তোলে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার অনাচারকে। এই মুভিটির কারণে চ্যাপলিনকে আমেরিকায় বসবাসেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আমেরিকা ছাড়ার আগে চার্লি চ্যাপলিনলাইম লাইটনামে আরেকটি মুভি নির্মাণ করেন। লাইমলাইট ছবিটির শেষ দৃশ্যটি শতবর্ষের সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম একটি অসাধারণ দৃশ্য। বিখ্যাত ফরাসী নাট্যকার অভিনেতা মলিয়েরও ঠিক এভাবেই অভিনয় করতে করতেই মঞ্চের ওপরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। সোফিয়া লরেন মার্লন ব্র্যান্ডোর সঙ্গে কাউন্টেস ফ্রম হংকংছবিতে জীবনে শেষবারের মতো অভিনয় করেছিলেন চ্যাপলিন৷ তবে ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই মুভিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হতে পারেনি৷ (দ্রষ্টব্য: উপরের ছবিগুলো যথাক্রমে - মেকিং লিভিং, দ্য ট্র্যাম্প, দ্য কিড, দ্য ডিরেক্টরি এবং দ্য সার্কাস মুভির দৃশ্য)
এই

চ্যাপলিন কেনো এতো জনপ্রিয়?
কী এমন আছে চ্যাপলিনের ছবিগুলোর মধ্যে! কেন ছবিগুলো মানুষকে এতো মোহগ্রস্ত করে তুলে? সে সময়কার দুঃখী মানুষগুলো যেনো আশ্রয় খুঁজা শুরু করলো চ্যাপলিনের কাছে চ্যাপলিন নির্বাক ছবি করতেন যার ছবিতে কিছু শোনা যায় না থাকে শুধু কিছু তামাশা সেই তামাশার অতল গভীরে লুকিয়ে থাকে মানুষের জীবনের হাহাকার, রূঢ় বাস্তবতার বিরুদ্ধে মানুষের অবিরাম যুদ্ধ

স্বশিক্ষায় সুশিক্ষিত
চার্লি চ্যাপলিন, একাধারে অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার সংগীতকার। কিন্তু এসব কোনো কিছুরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন নি চার্লি চ্যাপলিন। একাডেমিক শিক্ষা বলতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ গ্রহণ করেছেন চ্যাপলিন। এমনকি চেলো, বেহালা পিয়ানো বাজানেতোও ছিলেন সিদ্ধহস্ত৷ এসবও শিখেছিলেন কোনো গুরুর সহায়তা ছাড়াই৷ প্রতিটি ছবির সংগীত রচনা করেছেন নিজে৷

চার্লি চ্যাপলিনের জীবনের মজার একটি ঘটনা
চার্লি চ্যাপলিন তখন পৃথিবী-বিখ্যাত। তার অনুকরনে অভিনয়ের একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গোপনে চার্লি চ্যাপলিন নাম দেন সেই প্রতিযোগিতায়। মজার বিষয় হলো প্রতিযোগিতা শেষে দেখা গেলো ১ম ২য় স্থান অর্জন অন্য দুজন প্রতিযোগী। চার্লি চ্যাপলিন হন তৃতীয়

পুরস্কার সম্মাননা
চার্লি জীবনে অনেক ছবি করেছেন এবং দেশ-বিদেশে নানা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন জীবনে কৃতিত্বের জন্য রানী এলিজাবেথ কতৃক তিনি নাইট উপাধি লাভ করেন ১৯৬৪ সালে চার্লির আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ( My Autobiography ) বইটি সর্বকালের বেস্ট সেলার হিসেবে বিক্রি হয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তার তৈরি 'মূর্তি' রয়েছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানজনক ডিগ্রিসহ ফরাসি সরকারে দেওয়া অর্ডার অব দ্য লিজিওন। তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গোল্ডেন গ্লোব একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরস্কার জিতেন। এছাড়া তার ছয়টি চলচ্চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস বিশেষভাবে সংগ্রহ করেছে

চার্লি চ্যাপলিন কি কমিউনিস্টপন্থী ছিলেন?
চার্লি চ্যাপলিন বেশ কিছু বিতর্কিত রাজনৈতিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’। এখানে চ্যাপলিন জার্মানির নাৎসি নেতা এডলফ হিটলারের একটি ব্যঙ্গাত্মক চরিত্রে অভিনয় করেন। আর এসবের সূত্র ধরেই তাঁকে কম্যুনিস্টপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়াস পায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দারা চ্যাপলিনের ছদ্মনাম নিয়ে কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি। তবে এটা ঠিক যে যুক্তরাষ্ট্রকে ভালো চোখে দেখতেন না চ্যাপলিন। ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ব্যাপারে তিনি অনিচ্ছা দেখিয়ে সুইজারল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন।

চার্লি চ্যাপলিন ও আইনস্টাইনের সাক্ষাৎ
অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের যখন প্রথম চার্লি চ্যাপলিনের সঙ্গে দেখা হলো তখন আইনস্টাইন চ্যাপলিনকে বললেন- আপনাকে আমি যে কারণে খুব পছন্দ করি সেটা হলো আপনার বিশ্বজনীন ভাষা। আপনি যখন অভিনয় করেন, তখন আপনি
হয়তো কোনো ডায়লগই বলছেন না, কিন্তু সারা পৃথিবীর মানুষ ঠিক বুঝতে পারে আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন এবং তারা সেজন্য আপনাকে অসম্ভব ভালোও বাসে। উত্তরে চার্লি চ্যাপলিন বললেন- ড. আইনস্টাইন, আপনাকে আমি তার চেয়েও বড়কারণে পছন্দ করি। আপনার থিওরি অফ রিলেটিভিটিসহ অন্যান্য গবেষণার বিন্দুবিষর্গ কেউ বুঝে না, তবুও গোটা পৃথিবীর মানুষ আপনাকে শ্রদ্ধা করে।

Facebook Twitter Delicious Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Bluehost Review